উত্তাল নেপাল, পার্লামেন্টে প্রবেশ ছাত্র-জনতার
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হলেও বিক্ষোভকারীরা তা অমান্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে বহু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। তবে আন্দোলনকারীরা দমে যাননি। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে বাধ্য হয় সরকার।
শনিবার সকাল স্থানীয় সময় ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা মৈতিঘর এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তরুণরা অনলাইনে ‘নেপো কিড’ ও ‘নেপো বেবিস’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সেই অনলাইন আন্দোলন এবার রাস্তায় নেমে এসেছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সরকার নিবন্ধনহীন ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধের ঘোষণা দেয়। আন্দোলনকারীরা একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখেন। এতে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম অনলাইন আন্দোলনকে সড়কে নামিয়ে আনার ডাক দেন।
কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ‘হামি নেপাল’ নামে একটি সংগঠন অনুমতি নিয়ে এদিনের সমাবেশ আয়োজন করে। সংগঠনের চেয়ারম্যান সুধান গুরুং বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশজুড়েই একই সময়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের রুট ও নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম পরে বই হাতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যাতে এই আন্দোলন আরও প্রতীকী রূপ পায়।
সহিংসতা বেড়ে গেলে কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন দ্রুত কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি করে। প্রথমে বানেশ্বরের কিছু অঞ্চলকে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির বাসভবন শীতলনিবাস, উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন লেইনচৌর, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বালুয়াটার ও আশপাশের এলাকাতেও কারফিউ জারি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ হয়তো সাময়িকভাবে বিক্ষোভ দমন করতে পারবে, তবে তরুণদের ক্ষোভ আরও গভীর হয়ে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।


No comments