Header Ads

প্রধানমন্ত্রী হলে ছাড়তে হবে দলীয় প্রধানের পদ — জুলাই সনদের খসড়ায় নতুন নিয়ম

 
                      

প্রধানমন্ত্রী হলে ছাড়তে হবে দলীয় প্রধানের পদ — জুলাই সনদের খসড়ায় নতুন নিয়ম



প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তিনি আর দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না। কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট—এমনই কিছু বড় প্রস্তাব এসেছে জুলাই সনদের খসড়ায়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে নানা সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কমিশন জানায়, অনেক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলেও সব প্রস্তাবে সবার সম্মতি হয়নি। তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণায় জনগণের যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন ছিল, তা ৫৩ বছরেও পূর্ণ হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, সংবিধান বিকৃতি, দলীয়করণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জনগণের আন্দোলনের মুখে সরকার ক্ষমতা হারানোর পর জনগণের মধ্যে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রবল চাহিদা তৈরি হয়।

সনদের মূল প্রস্তাবগুলো:

  • রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা, পাশাপাশি মাতৃভাষা হিসেবে অন্যান্য ভাষাও স্বীকৃতি পাবে।

  • নাগরিক পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’।

  • সংবিধান সংশোধনে দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।

  • জরুরি অবস্থায় নাগরিকের জীবন ও বিচার পাওয়ার অধিকার খর্ব করা যাবে না।

  • সংবিধানে যুক্ত হবে: বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ধর্ম, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির দেশ।

  • রাষ্ট্রপতি সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। তিনি কোনো দলীয় বা সরকারি পদে থাকতে পারবেন না।

  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে, তবে তাকে অভিশংসনের সুযোগ থাকবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১০ বছর। একইসঙ্গে তিনি দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না।

  • নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করা হবে। এর প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের জন্য স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জটিল বাছাই প্রক্রিয়া থাকবে।

  • আইনসভা হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট—নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ ও উচ্চকক্ষ সিনেট। উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকবেন এবং তাদের নির্বাচনে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি থাকবে।

  • নারী প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১০০ আসনে উন্নীত করা হবে। ২০৪৩ সালের আগেই প্রার্থীতায় ৩৩% নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি বাড়ানো হবে। বিচারপতি নিয়োগে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে।

  • নির্বাচন কমিশন গঠনে বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া নির্ধারণ হবে। কমিশনাররা পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

সার্বিকভাবে, জুলাই সনদের খসড়ায় রাষ্ট্র কাঠামোতে ভারসাম্য আনা, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা এবং গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রাখা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.