Header Ads

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট অন্তর্ভুক্ত না হলে জুলাই ঘোষণাপত্র বর্জনের ঘোষণা গণঅধিকার পরিষদের

                                          

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট অন্তর্ভুক্ত না হলে জুলাই ঘোষণাপত্র বর্জনের ঘোষণা গণঅধিকার পরিষদের





জুলাই ঘোষণাপত্রে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন তথা গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট অন্তর্ভুক্ত না করায় ঘোষণাপত্র বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।

বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানায় দলটি। রাজধানীতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।

লিখিত বক্তব্যে রাশেদ খান বলেন, ঘোষণাপত্রের ১৬ নম্বর দফায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ চলাকালে সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় ২০২৪ সালে। হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বাতিল হওয়া ৩০% কোটা ফিরে না এলে নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না। সেই প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করে ঘোষণাপত্রে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকেই গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত। অথচ আন্দোলনের মূল ইতিহাস বাদ দিয়ে একটি মিথ্যা বর্ণনার ভিত্তিতে ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের ধারাবাহিক লড়াই-সংগ্রামের অবদান চেপে যাওয়া হয়েছে। তিনি একে পরিকল্পিত ইতিহাস বিকৃতি ও অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “এই বিকৃত ইতিহাস আগামী প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করবে, যেমন ১৯৭১ সালের ইতিহাস নিয়েও আমাদের অনেক কিছু ভুল শেখানো হয়েছে। তাহলে আওয়ামী লীগের রচিত ইতিহাস আর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত ইতিহাসের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?”

ঘোষণাপত্রের ১৭ নম্বর দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। তবে জাতিসংঘের হিসাবে এ সংখ্যা ১৪০০-এর বেশি, এবং সরকারি গেজেটে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান বলেন, “আমরা কি আবারও শহীদের সংখ্যা নিয়ে রাজনীতি করব? কেন ৬ শহীদের মরদেহ এক বছর ধরে ঢাকা মেডিকেলে পড়ে থাকে? কেন তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায় না? কেন গুলি চালানো বাহিনীর কেউ আজও গ্রেপ্তার হয়নি বা তাদের কোনো সংস্কার হয়নি?”

তিনি আরও বলেন, ১৮ নম্বর দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ‘গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে’ শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “হাসিনা কি সত্যিই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন? আমরা আজও জানি না কীভাবে তিনি ভারতে গেলেন। এ সময়ই তাকে গ্রেপ্তার করা দরকার ছিল। শুধু রায় ঘোষণা করলেই কি বিচার শেষ হয়ে যায়? শতবার ফাঁসি দিলেও তার শাস্তি কম হবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ঘোষণাপত্রে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, শাপলা চত্বরের ঘটনা, মোদিবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু এবং আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ঘটনারও কোনো উল্লেখ নেই। অথচ এসব ঘটনা তরুণদের মধ্যে বিপ্লবী চেতনার বীজ বপন করেছে এবং তাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগ্রামী করে তুলেছে।

তিনি বলেন, “এতগুলো ঐতিহাসিক ঘটনা বাদ দেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা থাকতে পারে। তারুণ্যের সংগ্রামের ইতিহাসকে মুছে ফেলার এই অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।”

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রধানমন্ত্রী ইউনূস তার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ দিয়েছেন। এতে কিছুটা ধোঁয়াশা কেটে গেলেও, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নির্বাচনকালীন পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, শহিদুল ইসলাম ফাহিম এবং অ্যাডভোকেট সরকার নূরে এরশাদ সিদ্দিকী প্রমুখ।

No comments

Powered by Blogger.