স্বাধীন সাংবাদিকতার মূল বাধা রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা চাপ
স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হচ্ছে রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ। বিশেষ করে ডিজিএফআই-এর সরাসরি প্রভাব দৃশ্যমান বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন—পরিশ্রমী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করলে বোঝা যায়, এই সংকট মূলত কাঠামোগত সমস্যার ফল। দেশে টেলিভিশন সম্প্রচারের জন্য কোনো স্বতন্ত্র আইন নেই। ফলে সরকার চাইলে যেকোনো সময় কোনো চ্যানেল বন্ধ করে দিতে পারে। অনলাইন ও টেলিভিশন মাধ্যমের জন্যও নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নেই। ঢাকায় অনেক সাংবাদিক মাসে মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পান। আর জেলার অধিকাংশ সাংবাদিক কোনো বেতনই পান না। বরং অনেক ক্ষেত্রে শুধু আইডি কার্ড পাওয়ার জন্যই তাদের অর্থ ব্যয় করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সংবাদপত্রগুলো এখনো ২০১৩ সালের অষ্টম ওয়েজবোর্ড মেনে চলছে, সেটিও বাধ্যতামূলক নয়। ফলে বেশিরভাগ মালিক সেটি মানেন না। যেখানে বেতন দেওয়া হয়, সেখানেও ৪ থেকে ৫ মাস বকেয়া থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। চাকরির নিশ্চয়তা নেই, মালিক চাইলে যেকোনো সময় ছাঁটাই করতে পারেন। আবার সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হত্যার বিচার না হওয়ায় তাদের জীবন সর্বদা অনিশ্চয়তায় ভরা।
স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন—রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব সবচেয়ে বড় বাধা। বিশেষ করে ডিজিএফআই-এর নির্দেশ অমান্য করলে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়, মালিকদের ব্যবসায় নানা রকম চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন হয়রানির মুখে পড়তে হয়। ফলে মালিকরা বাধ্য হয়ে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ থাকতে চান। পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। এর সঙ্গে কর্পোরেট গোষ্ঠীর প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। বিশেষত বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া আধিপত্য অনেক সাংবাদিককে নীরব থাকতে বাধ্য করছে। (এমনকি এই প্রভাবশালী মহলের সমালোচনা করায় তার ফেসবুক আইডিও রিপোর্ট করে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।)


No comments