ড. ইউনূসের উদ্যোগে বাংলাদেশ অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছে
মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত পরিচিতির কারণে বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (২৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রেস সচিব জানান, শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার শুল্ক ২০ শতাংশে নামানো নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং ভবিষ্যতে আরও শুল্ক কমানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত হবে এবং রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার সময় অন্যান্য বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে দরকষাকষি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেন। এতে বাংলাদেশের পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন, যা জুলাইয়ে ৩৫ শতাংশে নামানো হয়।
নতুন শুল্কহার ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। ওই তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সব চালানে এই শুল্কহার প্রযোজ্য হবে। যেহেতু বাংলাদেশ থেকে পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে প্রায় এক মাস সময় লাগে, তাই সেপ্টেম্বর মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করা সব চালানে নতুন হার কার্যকর হবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ৭ আগস্টের পর যেসব পণ্য শিপমেন্ট হয়েছে সেগুলো নতুন শুল্কের আওতায় আসবে। শিপিংয়ের কাছে হস্তান্তরের তারিখ বা বিল অব লেডিং ইস্যুর তারিখ অনুযায়ী হিসাব করা হবে। তবে ৭ আগস্টের আগে শিপমেন্ট হওয়া পণ্যের ক্ষেত্রে আগের শুল্কহার বহাল থাকবে।
এর আগে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। এখন অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হওয়ায় মোট শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ৩৬.৫ শতাংশে, যা পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হারে প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানির ৮৬ শতাংশের বেশি হলো তৈরি পোশাক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে ৭.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৭৫৪ কোটি ডলার।


No comments