Header Ads

সোনালী, জনতাসহ ১৪ প্রতিষ্ঠানের জন্য পদোন্নতি নীতিমালা করার কারণ

                                       

সোনালী, জনতাসহ ১৪ প্রতিষ্ঠানের জন্য পদোন্নতি নীতিমালা করার কারণ


                        

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল সোমবার দুটি পদোন্নতি নীতিমালা জারি করেছে। এগুলো হলো:

১) ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা-২০২৫’, এবং
২) ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালা-২০২৫’।

উভয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতিমালা তৈরির লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ দুটি আলাদা কমিটি গঠন করেছিল। কারণ বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ভিন্ন।

কিন্তু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাজ ধীরগতিতে চলছিল। পরে গত বছরের ৩০ অক্টোবর নাজমা মোবারেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব হিসেবে যোগদান করে বিষয়টিকে সময়ানুবর্তী সংস্কার পরিকল্পনার মধ্যে গুরুত্বসহকারে অন্তর্ভুক্ত করেন। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এক মাস পাঁচ দিন পরই এটি সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, খসড়া নীতিমালার ওপর চলতি বছরের ১৯ জুন ও ২১ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের মতামত নিয়ে উভয় নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়। আর্থিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জারি করার এক দিন আগে এতে সম্মতি দেন।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য প্রণীত নীতিমালা প্রযোজ্য হবে সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির (বিডিবিএল) কর্মচারীদের জন্য। অন্যটি প্রযোজ্য হবে ছয়টি বিশেষায়িত ব্যাংক ও দুইটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য, যেগুলো হলো: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এসব ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান একই সময়ে বিভিন্ন গ্রেডে জনবল নিয়োগ করলেও পদোন্নতির ক্ষেত্রে আলাদা নীতিমালা অনুসরণ করা হতো। সরকারের ইচ্ছা ছিল পদোন্নতিতে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা, সামঞ্জস্য ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, যাতে যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি হয় এবং সুশৃঙ্খল পদোন্নতি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।

উভয় নীতিমালায় উল্লেখ আছে, পদোন্নতির জন্য প্রার্থীদের যেকোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই বিধি প্রযোজ্য হবে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রিন্সিপাল অফিসার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের জন্য।

নীতিমালা অনুযায়ী, পদোন্নতির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড, মেধা, কর্মদক্ষতা, প্রশিক্ষণ, সততা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিচার হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ফিডার পদে চাকরিকালের জন্য প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরকে ভিত্তিকাল ধরা হবে, আর বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ৩০ জুন।

কোনো কর্মচারীর ফিডার পদে সর্বশেষ তিন বছরের যেকোনো এক বছরের চাকরি সন্তোষজনক না হলে, অর্থাৎ বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য থাকলে, তিনি পরবর্তী পদের জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া, ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে, বিভাগীয় মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হলে বা দণ্ডকাল বহাল থাকলে তাকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে না।

পদোন্নতির জন্য মোট ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে এসিআরের ৫ বছরের গড় নম্বর ৪৫। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতায় ১৫ নম্বর, ফিডার পদে চাকরিকালে ১৫ নম্বর, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় ৪ নম্বর, ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষায় (ব্যাংকিং ডিপ্লোমা) ১০ নম্বর, দুর্গম এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতায় ১ নম্বর, শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে ফিডার পদে কাজের অর্জনে ২ নম্বর এবং সাক্ষাৎকার/মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর থাকবে। মোট ৯২ নম্বরের মধ্যে পদোন্নতির জন্য প্রার্থীকে কমপক্ষে ৭৫ নম্বর পেতে হবে। দুইটির যোগফল থেকে মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে।

জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটার প্রয়োজন ছিল। আমরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।’

যে প্রশ্ন করা হয়, যারা আগে যেকোনোভাবে শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পেয়ে ছিলেন, তারা পদোন্নতির ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন কিনা, এমডি মজিবুর রহমান জানান, ‘আমরা নীতিমালা বিচার-বিশ্লেষণ করছি। কোনো সমস্যা থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানানো হবে।’

No comments

Powered by Blogger.