৪২ পদক্ষেপ নিচ্ছে ইসি সংসদ নির্বাচন ঘিরে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৪২ ধরনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে, যা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে বাস্তবায়ন করা হবে। নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা কাটিয়ে আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই व्यापक পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তফসিল ঘোষণার প্রায় তিন মাস আগেই এই পরিকল্পনা তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন আয়োজন করা। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে।
প্রধান নিরাপত্তা ও আইনগত পদক্ষেপসমূহ
নির্বাচনি এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইসির এই পরিকল্পনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং বৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা। নির্বাচনের কিছুদিন আগে থেকে লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের অস্ত্রসহ চলাচল সীমিত করা হতে পারে এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থানায় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
প্রচারসামগ্রী অপসারণ: মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে প্রতীক বরাদ্দ পর্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সারা দেশ থেকে সব ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও তোরণ অপসারণ করা হবে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বহিরাগত ও অবৈধ প্রভাব বিস্তারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড: সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা ও লজিস্টিকস
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েনের পরিকল্পনা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।
কর্মকর্তা ও অফিস সুরক্ষা: রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ সকল নির্বাচনি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত এবং দাপ্তরিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
ভৌত অবকাঠামো ও পরিবহন: ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার, পার্বত্য অঞ্চলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনি সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের পরিবহন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সহায়ক সেবা: নির্বাচনকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম গঠন এবং অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত রাখা।
তথ্যপ্রযুক্তি ও অপপ্রচার রোধ: তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন সংক্রান্ত ভুল ও মিথ্যা তথ্যের প্রচার প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
কমিশনের দৃঢ় অবস্থান
এই পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।" তিনি আরও বলেন, জীবন ঝুঁকির মুখে পড়লেও নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা সহ্য করা হবে না এবং এর দায় শুধু কমিশন নয়, নির্বাচনি কর্মকর্তাদেরও বহন করতে হবে।
সার্বিকভাবে, নির্বাচন কমিশন একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ে এই বহুমুখী নিরাপত্তা ছক বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।


No comments