ডাল-আটা, ময়দার দামও বেড়েছে
গত দুই মাস ধরে সবজির বাজার অস্বাভাবিকভাবে অস্থির। এর সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে মুদি পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মসুর ডাল ও আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। ফলে একদিকে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে সবজি কেনার ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে।
বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহে খোলা আটার দাম বেড়ে খুচরায় কেজিপ্রতি ৫০ টাকা হয়েছে। একইভাবে বেড়েছে প্যাকেটজাত আটার দামও। আটা কেজিতে ৬–১০ টাকা এবং ময়দা ৫–১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, খোলা ও মোড়কজাত উভয় ধরনের আটা-ময়দার দাম সমানভাবে বেড়েছে। ১৫ দিন আগে যেখানে দুই কেজি মোড়কজাত আটা বিক্রি হতো ৯০–৯৫ টাকায়, এখন তা ১১০–১১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩৮–৪০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮–৫০ টাকায়।
মসুর ডালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ছোট দানার মসুর ডালের দাম গত দুই সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে এখন ১৫০–১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা দানার মসুরের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকায় পৌঁছেছে। মুগডালের দাম কেজিতে ২৫ টাকা বেড়েছে। ছোলার দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুরগি ও ডিমের দামও এখনো আগের বাড়তি দামে স্থির রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০–১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০–৩২০ টাকা এবং ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০–১৫০ টাকায়।
মহাখালীর কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা আক্তার হোসেন বলেন, “মাছ-মাংসের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ ডিম ও ডালের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এখন এগুলোও নাগালের বাইরে চলে গেছে। আমরা কোথায় যাব? মানুষ দারুণ কষ্টে আছে। সরকারকে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে নজর দিতে হবে।”
রাজধানীর খুচরা বাজারে সবজির দামও বেশ চড়া। গোল বেগুন মানভেদে কেজিপ্রতি ১৪০–২০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০–১০০ টাকা, ঢেঁড়স ও পটোল ৮০–১০০ টাকা, করলা ১০০–১২০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, বরবটি ১০০–১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০–১০০ টাকা, ধুন্দল ৯০–১০০ টাকা, চিচিঙা ৮০ টাকা, টমেটো ১৬০–১৮০ টাকা, নতুন শিম ২২০–২৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০–২০০ টাকা, আর পেঁপে কেজিপ্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালকুমড়া প্রতি পিস ৭০–৮০ টাকা, লম্বা লাউ ৮০–৯০ টাকা এবং কাঁচকলার হালি ৪০–৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।


No comments