Header Ads

দেশের মানুষ পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে: তারেক রহমান

                                                      

দেশের মানুষ পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে: তারেক রহমান


                                        


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। উন্নয়নের রাজনীতি, দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের রাজনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন এবং বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা অপরিহার্য। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দ্রুত এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে। নেতাকর্মীদের এই পরিকল্পনাগুলো দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পরিবেশ ও প্রাঙ্গণের পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ থেকে ৩০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব গাছ পরিবেশ রক্ষা করবে এবং বাংলাদেশকে বন্যা ও খরার হাত থেকে রক্ষা করবে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার এবং বাক স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তা শহীদ পরিবারের সদস্যদের দেখে বোঝা যায়। শুধু জুলাই-আগস্ট নয়, গত ১৫ বছর ধরে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছে এবং পলাতক স্বৈরাচারের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। তাদের প্রতি সম্মান জানাতে হলে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাদের শ্রদ্ধার একমাত্র উপায় হলো তারা যেসব প্রত্যাশা নিয়ে রাজপথে নেমেছে, সেই প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়ন করা।

তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। তারা স্বপ্ন বা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতি চায়। সেই প্রত্যাশা ধারণ করেই আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরি করা হচ্ছে। জনগণের জীবন উন্নয়নে কাজ করা, দেশের বাইরে-ভিতরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হবে। মানুষের ভোটের অধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি জানান, বিএনপির একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছে এবং পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তৈরি করছে। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে যুবসমাজের মধ্যে থেকে নারীর শতকরা ৮০ ভাগকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হবে এবং তারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয় খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করলে সমগ্র দেশে শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হবে। এটি মানুষের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে।

তিনি যুবদলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে। জনগণের বিশ্বাস পেলে নেতা হওয়া যায়, আর জনগণ প্রত্যাখ্যান করলে নেতা হওয়া যায় না। প্রশাসনিক সহায়তা থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের সমর্থন ছাড়া নেতৃত্ব সম্ভব নয়। জনগণের আস্থায় থাকার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদি আমিন, মানবাধিকার কর্মী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, যুবদলের রবিউল ইসলাম নয়ন, গুম হয়ে যাওয়া অ্যাডভোকেট সোহেল রানা, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সায়েম আল মনসুর ফয়েজী, শহীদ মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে আপন, ইয়াহিয়া আলীর মেয়ে তাইয়েবা খাতুন, হাফিজুর রহমান সুমনের স্ত্রী বিধী আখতার ও নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আখতার নেহা। এছাড়া বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকত উল্লাহ বুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আব্দুস সালাম আজাদ, সাইফুল আলম নীরব ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।

No comments

Powered by Blogger.