ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে
বিশিষ্ট অভিনেতা, সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিসচা প্রতিষ্ঠাতা ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি চাই দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক, ঘুষ-দুর্নীতি দূর হোক, অপকর্ম ও অবিচার চিরতরে নির্মূল হোক। সব নাগরিকের জীবন হোক নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, এসব সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে এবং সঠিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’
সোমবার (৪ আগস্ট) লন্ডন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই সেই সাহসী মানুষদের, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, সত্যের পতাকা হাতে নিয়েছিলেন। ৫ আগস্ট শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি চেতনা, একটি জাগরণ, একটি অঙ্গীকার। এটি সেই প্রতিশ্রুতি, যে আমরা আর নীরব থাকব না। যারা এক বছর আগে রাস্তায় নেমেছিলেন, যারা জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।’
ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে আমি ওই সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের নারকীয় তাণ্ডব, হত্যা-গুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছি। আমি আমার অবস্থান থেকে জুলাই আন্দোলনের সময় মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছি এবং জাতির উদ্দেশ্যে আমার ফেসবুক পেজে লাইভে বক্তব্য দিয়েছি। সরকারের কাছে যুক্তিসঙ্গত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি বারবার। কিন্তু তখনও সরকার পেশিশক্তি দিয়ে শিশু, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে।’
তিনি শহীদ আবু সাইদ, মুগ্ধসহ যারা এই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। হত্যার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক মানের বিচার করা জরুরি। এক বছর পরও বিচার প্রক্রিয়া চলছে, তবে এটি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। আমি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।’
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার যত মায়ের বুক খালি করেছে, যত মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর ফ্যাসিস্ট সরকার জন্ম নেবে। এর চূড়ান্ত অবসান অত্যন্ত জরুরি।’
জনতা পার্টি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সামগ্রিক বিষয়ে বলেন, ‘এই আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তা সব পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্পন্ন করুক। গত এক বছরে বিভিন্ন প্রতীক, লতা ও আন্দোলনের মধ্যেও যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগেও বলেছি, অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। যারা দেশকে বাঁচাতে এই সরকারকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আগামী ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে জুলাই সনদ ঘোষণার উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি।’
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি রাজনীতির মাঠে নেমেছি দায়িত্ববোধ থেকে। বর্তমানে আমি বিদেশে থাকায় হয়তো সক্রিয়ভাবে সময় দিতে পারছি না, তবে আমার রাজনৈতিক দল জনতা পার্টি বাংলাদেশ সবসময়ই ন্যায়বিচারভিত্তিক শাসনব্যবস্থার কথা বলে আসছে। আমি দেশবাসীকে বলব, ধৈর্য ধরুন। ইনশাআল্লাহ, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, সেটি একদিন বাস্তবায়িত হবেই।


No comments