অতীতের পুনরাবৃত্তি নয়, বস্তাপচা নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমরা আর অতীতের মতো বস্তাপচা নির্বাচন চাই না, এবং এমন নির্বাচন কখনও মেনে নেব না। নির্বাচন হতে হবে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে; কালো টাকা ও মাস্তানতন্ত্রের প্রভাব বন্ধ করতে হবে।”
বুধবার (২৩ জুলাই) সিলেটের বিয়ানীবাজারে জনশক্তি ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ফয়জুল ইসলাম। এ তথ্য জানানো হয়েছে দলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে।
শফিকুর রহমান বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৬ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা দেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় পাঁচ গুণ। এই অর্থ দেশেই থাকলে অনেক উন্নয়ন সম্ভব হতো। দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, “বিদেশিরাও বলছেন, শুধু দুর্নীতি কমলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। দুর্নীতি শুধু ঘুষ বা চাঁদার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর বাইরে রয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি, যা আরও ভয়ংকর। ক্ষমতায় থাকাকালে তারা নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করে, আর সংকট এলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।”
জামায়াতের নেতাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের কারও বিদেশে কোনো ‘বেগমপাড়া’ নেই। কিন্তু যারা বছরের পর বছর ক্ষমতায় ছিল, তাদের সম্পদের কোনো হিসাব নেই। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক কেড়ে নেওয়া, খুন-গুম এবং নিষিদ্ধ ঘোষণার মতো নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপরও আমরা জাতিকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তিনি একসময় বলেছিলেন, ক্ষমতা হারালে পাঁচ লাখ মানুষ মারা পড়বে। কিন্তু ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সারা দেশে পাহারা বসিয়েছি। আমরা প্রতিশোধে বিশ্বাস করি না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু কথায় বিশ্বাস করি না, কাজের মাধ্যমেই তা প্রমাণ করি। জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের প্রতি মাসের প্রথম তারিখে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করি। শহীদ সুমাইয়ার মেয়ে সুবাইতার দায়িত্বও আমরা নিয়েছি।”
জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কাউকে এই বিপ্লবের ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করি না। এই বিপ্লবের নায়ক ছিল পুরো জাতি।”
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চাই, সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। কোনো আগাম ফল নির্ধারণ নয়, চাই একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র। প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুরুত্বও আমরা দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা গড়তে চাই একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে ন্যায়বিচার এবং দূর হবে অনিয়ম-অন্যায়।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী), সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমির ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট জেলা নায়েবে আমির ও সিলেট-২ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল হান্নান, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী ও জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
এছাড়া বক্তব্য দেন বিয়ানীবাজার পৌর আমির মাওলানা মোস্তফা উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ মাওলানা নাজমুল ইসলাম, মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আল মামুন, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নাজিম উদ্দীন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির রায়হান উদ্দিন রেহান, গোলাপগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যক্ষ জিন্নুর আহমদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ রুকন উদ্দিন, উপজেলা নেতা মুহাম্মদ আবদুল হামিদ, লাউতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, পূর্ব জেলা শিবিরের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান এবং জেলা শিবিরের অর্থ সম্পাদক আহবাব হোসেন মুরাদ।
সমাবেশ পরিচালনা করেন বিয়ানীবাজার পৌর আমির মোহাম্মদ জমির হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির ফয়জুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নায়েবে আমির মোস্তফা উদ্দিন ও মো. আবুল খায়ের, পৌর নায়েবে আমির সৈয়দ আবু কয়ছর কাজল, উপজেলা সেক্রেটারি আবুল কাশেম, পৌর সেক্রেটারি সাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকা মো. রুকন উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল হামিদ, পৌর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুনিবুর রহমান পাভেল, তানভীর এলাহী মজুমদার এবং অন্য নেতাকর্মীরা।
.jpg)

No comments