সমন্বয়কদের চাঁদাবাজির ঘটনায় মর্মাহত মির্জা ফখরুল
সম্প্রতি রাজধানীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাঁচ সমন্বয়ক গ্রেপ্তারের ঘটনায় ‘বেদনায় নীল’ হয়ে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ উপলক্ষে যুবদলের মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “পত্রিকার পাতা খুলে দেখি—পাঁচজন সমন্বয়কারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা একটি বাড়িতে ঢুকে এক সাবেক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা আদায় করেছে। এটা দেখেই মনে হলো—বেদনায় একেবারে নীল হয়ে গেছি। এটা কি আমরা চেয়েছিলাম? দেশের মানুষ কি কেউ এটা চেয়েছিল? মাত্র এক বছর হয়নি—এর মধ্যেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে?”
তিনি বলেন, “আজ টেলিভিশন ও পত্রিকায় বারবার করে ডিবি অফিসের ছবি দেখানো হচ্ছে। অথচ আমাদের নেতা-কর্মীদের যাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল, হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, ঝুলিয়ে-পিটিয়ে মারা হয়েছিল, এমনকি আমাদের জুনিয়র লিডার টুকু সাহেবকেও সেদিন ছাড় দেওয়া হয়নি—তাদের ছবি কই, তা কি দেখা যায়? সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ করব—কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলুন। যার যে অবদান আছে, তাকে স্বীকৃতি দিন।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে একটি পরিত্যক্ত কারাগারে পাঠানো হয়েছিল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এসব বিষয়ে এখন আর কেউ কথা বলে না। অথচ দেশের গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়া তার জীবন ও সবকিছু ত্যাগ করেছেন। তাই খালেদা জিয়াকে নিয়ে নতুন করে জনমত গড়ে তোলার সময় এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে নানা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু এসব চেষ্টা কখনোই সফল হবে না।”
অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর পরোক্ষভাবে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকার প্রতিনিয়ত সংস্কারের কথা বলছে, আবার সেই সঙ্গে এমন ইঙ্গিতও দিচ্ছে যেন রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করছে না। এটি ঠিক নয়। আমরা বরাবরই তাদের সংস্কার উদ্যোগে সহযোগিতা করছি। আমরা সবার সঙ্গে মিলে কাজ করতে আগ্রহী।”
শেষে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কেউ একবারের জন্যও আত্মসমর্পণ করেননি। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই—আমাদের কোনো নেতা মুচলেকা দেননি।


No comments