Header Ads

হাদিকে হত্যার নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ করল পুলিশ

                                                    

হাদিকে হত্যার নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ করল পুলিশ



রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম বাপ্পীর নাম উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়াই ছিল নৃশংস এই হত্যার প্রধান কারণ। মামলাটিতে পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর ছয়জন এখনো পলাতক।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক এবং এতে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির মধ্যেই মামলার চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে। পরে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

সবশেষ ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.