ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ মৃত্যুর আগে বর্ষার কাছে যে আকুতি করেছিলেন
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানিয়েছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন খুন হওয়ার আগে এখনও জীবিত ছিলেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে বাঁচার চেষ্টা করে তিনি দ্বিতীয় তলা থেকে উঠে যান তৃতীয় তলায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রী বর্ষা। জোবায়েদ তখন তাকে বলেন, “আমাকে বাঁচাও।” কিন্তু বর্ষা জবাবে বলেন, “তুমি না মরলে আমি মাহীর হতে পারব না।” এরপর বর্ষা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, নিশ্চিত হয়ে যে জোবায়েদ আর বাঁচবেন না। মৃত্যুর আগে জোবায়েদ দরজায় কড়া নাড়লেও কেউ সাড়া দেয়নি।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। তিনি বলেন, “মেয়েটি (বর্ষা) খুব চালাক। সে দুইজনের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখত।
নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বিভক্ত বিএনপি, মাঠে শক্ত অবস্থানে জামায়াত
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে মাহীর ও বর্ষা পরিকল্পনা করে দুটি নতুন সুইচ গিয়ার কেনেন। ঘটনার দিন মাহীর ছুরি নিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন জোবায়েদকে। বর্ষা তাকে এই হত্যায় উৎসাহ দেয়। প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই প্রমাণ মিলেছে।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা ও মাহীরের মধ্যে নয় বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে মাঝখানে বর্ষা জোবায়েদের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং মাহীরকে না বলে দেন। কিছুদিন পর বর্ষা আবার মাহীরকে জানায়, জোবায়েদকে আর ভালো লাগে না। এরপর তারা দুজন মিলে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করে।”
ডিসি মল্লিক আরও জানান, প্রথমে বর্ষা হত্যার কথা অস্বীকার করলেও মাহীরের মুখোমুখি করা হলে সব স্বীকার করে নেয়। তদন্তে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই তারা জোবায়েদকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে আসছিল।
জোবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এক বছর ধরে জোবায়েদ পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের বাড়িতে ওই ছাত্রীকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন। গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রীটির বাসার তৃতীয় তলায় ওঠার সময় সিঁড়িতে তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়। নিচ তলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত রক্ত ছড়িয়ে ছিল।
ঘটনার পর বর্ষাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মামলার প্রস্তুতি চলছে। সোমবার জোবায়েদের মরদেহ কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
আরো পড়ুন


No comments