Header Ads

লাইভে আবু ত্বহার বিরুদ্ধে স্ত্রী তোলেন বিস্ফোরক অভিযোগ

                                                       

লাইভে আবু ত্বহার বিরুদ্ধে স্ত্রী তোলেন বিস্ফোরক অভিযোগ



ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী সাবিকুন নাহার। বুধবার রাতে এক অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই আবু ত্বহা তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন।

সাবিকুন নাহার বলেন, “আবু ত্বহা মানসিকভাবে অসুস্থ— এটা তিনি নিজেই আমাকে বলেছেন। কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে শাসনের নামে মারধর করেছেন বহুবার। এমনও হয়েছে, মারধরের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তিনি আমার খোঁজ নেননি।”

তিনি আরও বলেন, “ত্বহা প্রায়ই আমাকে মারধর করেন, দুদিন পরপর এমনটা ঘটে। চিৎকার করেন, বাসায় ভাঙচুর করেন— এসবের বহু প্রমাণ আমার কাছে আছে। কিন্তু তিনি অন্যদের সামনে সব অস্বীকার করেন। এখন নিজেকে বাঁচাতে যা খুশি তাই বলছেন, আর তাঁর সমর্থকরা আমাকে গালিগালাজ করছে।”

এর আগে, সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সাবিকুন নাহার লেখেন, “আমার অতীতের ভুলগুলো টেনে এনে বর্তমানের অপরাধীকে নির্দোষ বানানোর চেষ্টা চলছে। আপনারা আমার অতীত দিয়ে তার বর্তমান দোষ ঢাকতে চাইছেন, কিন্তু সত্যকে চেপে রাখা যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে বলছেন, ত্বহা আরও ৩–৪টা বিয়ে করলে সমস্যা কী? কিন্তু আমার প্রশ্ন— কতজন মেয়ের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন, ছবি তুলবেন, একান্তে বসবেন? কত মেয়েকে ইন্টারভিউর নামে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করবেন? কত মেয়ের সঙ্গে কত বছর এমন চলবে?”

বেবি দেখাশোনার জন্য রাখা এক মেয়ের সঙ্গে ত্বহার অনৈতিক যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ করেন সাবিকুন নাহার। তিনি বলেন, “দুই বছর আগে রংপুরের এক মেয়ের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেন ত্বহা। আমার সন্তানের দেখাশোনার নাম করে মেয়েটির সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন, তার ছবি চাইতেন। এমনকি মেয়েটিকে বাসায় আনার কথাও বলেন। এ বিষয়টি তাঁর ঘনিষ্ঠ ইয়ামিনও জানতেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ত্বহা আরেক মেয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, যার মা ক্যান্সার রোগী। সাহায্যের নামে ওই মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে আসেন এবং সব খরচ বহন করেন। আমি চাইলে মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেননি। আসলে উদ্দেশ্য ছিল মেয়েটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা।”

তৃতীয় এক মেয়েকে নিয়েও অভিযোগ তোলেন সাবিকুন নাহার। তাঁর দাবি, “ত্বহা এক মাদরাসার মেয়েকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার অজুহাতে তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বিস্তারিত বলছি না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন ইসলামী বক্তা হিসেবে তাঁর এমন আচরণ কি শোভনীয়?”

তিনি বলেন, “ত্বহা নিজে বলেছেন, তাঁর নারীসংক্রান্ত সমস্যা আছে। মাহরাম নারী দেখলেও তাঁর মন নড়ে ওঠে। রাস্তায় মেয়েদের দেখলেও মাশাল্লাহ বলেন, চেয়ে থাকেন। সবাই জানে, কিন্তু কেউ কিছু বলে না।”

সাবিকুন নাহার আরও বলেন, “আমি তাঁর পাশে থেকেও সুখ পাইনি। সবসময় ভয় করতাম। ফোন লুকিয়ে রাখতেন, আমাকে ফোন ধরতে দিতেন না। বিভিন্ন অজুহাতে মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। টিচার নিয়োগ, সিরাত প্রতিযোগিতা, মাদরাসা স্থাপন— এসবের আড়ালেই চলত এসব যোগাযোগ।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কাজের মেয়ের সঙ্গেও ত্বহার ঘনিষ্ঠতা ছিল। আমি একদিন তাঁর ফোনে দেখি, কাজের মেয়েটিকে তিনি মেসেজ দিয়েছেন— ‘দুই দিন ধরে দেখা হয় না, কোথায় আছেন?’ এসব দেখে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। পরে মেয়েটিকে ডেকে চড় মারি এবং বাসা ও মাদরাসা থেকে বের করে দিই।”

সাবিকুন নাহারের দাবি, “ত্বহার সঙ্গে অনেক মেয়েরই যোগাযোগ ছিল। তাঁদের অনেকেই সিরাত প্রতিযোগিতা বা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে তাঁর সংস্পর্শে এসেছে। বিজয়ী এক মেয়েকেও তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানে উস্তাযা হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তার প্রতি আলাদা নজর দেন।”

তিনি বলেন, “আরেকজন ডিভোর্সী মেয়ের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ছিল। সে মেয়ের সঙ্গে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কথা বলতেন। পরে বলেন, মেয়েটি পছন্দ হয়নি। এরপর আরেক এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এভাবে একের পর এক সম্পর্ক তৈরি করতেন।”

কমেন্ট বক্সে বিভিন্ন স্ক্রিনশট ও ভিডিও পোস্ট করে সাবিকুন নাহার লিখেছেন, “এগুলো তাঁর নিজের পাঠানো বার্তা। মেয়েদের শরীর নিয়ে মন্তব্য করতেন, এমনকি কোথায় তিল আছে তাও জানতেন। এগুলো আমাকে সহ্য করতে বাধ্য করতেন। আমি কি তাঁর মা নাকি বোন?”

তিনি বলেন, “আমি কেন অনলাইনে এসব বলছি? কারণ দুই বছর ধরে কোনো সমাধান পাইনি। বড়রা ডেকেও তাঁকে বসাতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে আমি এই প্ল্যাটফর্মে সত্য বলছি। হয়তো এবার সমাধান হবে।”

শেষে সাবিকুন নাহার বলেন, “আমি চাই না তাঁর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক থাকুক। আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। আমার সব হারিয়ে গেছে। এখন শুধু চাই, আমার পরকাল ঠিক থাকুক। আমি আর তাঁর মুখ দেখতে চাই না।

No comments

Powered by Blogger.