Header Ads

কারাবন্দি থেকেও ফেসবুকে সক্রিয় সেই ছাত্রলীগ নেত্রী!

                               

কারাবন্দি থেকেও ফেসবুকে সক্রিয় সেই ছাত্রলীগ নেত্রী!

কারাবন্দি থেকেও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ও বিতর্কিত পরিচয়ে খ্যাত ছাত্রলীগের নেত্রী বেনজির হোসেন নিশি। তার নামে অন্তত ১০টির বেশি ফেসবুক আইডি, পেইজ ও গ্রুপ রয়েছে, যেগুলো থেকে তিনি নিয়মিতভাবে অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে শতাধিক পোস্ট দেন।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সর্বশেষ ১৩ আগস্ট তাকে ঢাকার নিম্ন আদালতে হাজির করা হয়, যেখানে পুলিশের বেস্টনিতে জ্যাকেট ও হেলমেট পরা অবস্থায় নিশিকে দৃঢ় মনোবলে কথা বলতে দেখা যায়।

পদ-পদবির মাধ্যমে এক সময় ছাত্রলীগের নেত্রীরা ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন। শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন, হলে সিট-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাণিজ্য এবং ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে তারা পিছিয়ে থাকেননি। এমনকি জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময় বৈষ্যম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর গরম পানি নিক্ষেপের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে। ওই সময় তারা হুমকি দিয়েছিলেন, ‘৭ মিনিটে ঢাকা খালি’ করার। এসব কর্মকাণ্ডে তারা প্রশাসনকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর অনেক ক্ষমতাধর ও মারমুখী নেত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগই আত্মগোপনে চলে গেছেন, কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, কেউ আবার সংসারী হয়েছেন।

বেনজির হোসেন নিশি বর্তমানে কারাভোগ করছেন। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নিশির ক্ষমতা ছিল অসীম। অভিযোগ আছে, ভট্টাচার্য্যের কমিটি বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি থেকে প্রাপ্ত অর্থের কয়েকজন ক্যাশিয়ারের একজন ছিলেন নিশি।

তার দাপটের কারণে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবসময় আতঙ্কে থাকতেন। শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক মিছিলে নেওয়া, বিভিন্ন অবৈধ অ্যাসাইনমেন্টে পাঠানো, নির্দেশ না মানলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন—এসব ছিল তার নিয়মিত কর্মকাণ্ড। দলের নেতাকর্মীরাও তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ও শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখরের জেলার সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় তৃণমূলেও তার প্রভাব ছিল। কিছু নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইয়াসিনের মাথা ফাটানোর ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়াও রোকেয়া হলের নেত্রী ফাল্গুনী দাস তন্বীও নিশির হামলার শিকার হন এবং মামলাটি এখনও চলমান।

কারাবন্দি অবস্থাতেও নিশি তার ফেসবুক প্রোফাইলে সক্রিয়। তার আইডি ও পেইজ থেকে বিভিন্ন পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপি বিরোধী বক্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে। ৫ অক্টোবর নিশি তার ফেসবুকে দিন যতই যাচ্ছে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে রিসিভ করার লোক সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। একই দিনে তিনি লিখেন, ‘জয় বাংলা বিজয় এর হাসি আমরাই হাসবো’।

গ্রেপ্তারের আগে নিশি আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে ব্যঙ্গ করে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, ‘হায় আল্লাহ, আমি যদি কোনোদিন প্রেমিক হওয়ার সুযোগ পেতাম, আমি জানি না কখনও হতে পারব কি না! যদি হতাম, জীবন দিয়ে প্রেম করতাম, খালি মেয়েদের হৃদয় জয় করার জন্য।—জনৈক ছাত্রীবান্ধব শিক্ষক, ট্রিপল বিয়ে।’

No comments

Powered by Blogger.