Header Ads

৫০ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন বা নতুন প্রার্থী আসতে পারে

                             

৫০ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন বা নতুন প্রার্থী আসতে পারে


               

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছে। যেখানে একই আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের প্রত্যাশী, সেখানে দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। আগ্রহী প্রার্থীদের ডেকে বলা হচ্ছে—যে কেউ মনোনয়ন পেলেও অন্যদের তার জন্য কাজ করতে হবে। কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা নেতাদের জন্য কিছু আসন ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী দেওয়া হবে না।

সূত্র জানায়, বিরোধপূর্ণ আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা। ইতিমধ্যে রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লা ও বরিশাল অঞ্চলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। গত বুধবার নেত্রকোনা-৩ আসনের প্রার্থীদের ডাকা হয় গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নওগাঁ-৫ আসনের পাঁচজন প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, "আমাদের জানানো হয়েছে, যে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে অন্যদের তার জন্য কাজ করতে হবে। মনোনয়ন না পেলেও আমরা দলের হয়ে কাজ করব।" তিনি আরও বলেন, "ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবদিক যাচাই করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।"

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যেসব আসনে প্রার্থী বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখান থেকেই সম্ভাব্যদের ডাকা হচ্ছে। আগের প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রাখতে না পারলে পরিবর্তন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তরুণ ও নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেমন—যদি কোনো সাবেক এমপির সন্তান যোগ্যতায় পিছিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তবে যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলে উত্তরসূরি হিসেবেও মনোনয়ন পাওয়া সম্ভব।

আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকা অক্টোবরের শেষ দিকে বা নভেম্বরের শুরুতে প্রকাশ হতে পারে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকবে। এ সময় ডাক পাওয়া প্রার্থীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হবে এবং অন্যদের মনোনীত প্রার্থীর হয়ে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ফয়সল আলীমকেও ডাকা হয়েছিল। তার বাবা প্রয়াত আব্দুল আলীম সাবেক মন্ত্রী ও তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। ফয়সল আলীম বলেন, "আমাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যাঁকে প্রার্থী করা হবে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার হয়ে কাজ করতে হবে।"

২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপি ৫০টির বেশি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। যেখানে ২০০ জনেরও বেশি নেতাকে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জ-৩, সিরাজগঞ্জ-১, রাজশাহী-৫, বগুড়া-১, নওগাঁ-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, চাঁদপুর-২, বরিশাল-২, বরিশাল-৫ ও ঝালকাঠি-২ আসন।

শরিকদের জন্য ৪০-৫০ আসন ছাড়তে পারে বিএনপি

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী থাকবে না। তবে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক ও ১২-দলীয় জোটের নেতাদের জন্য ৪০-৫০ আসন ছাড়ার পরিকল্পনা আছে। ইতিমধ্যে শরিক দলগুলোর কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত অক্টোবর মাসে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের ছয় শরিক নেতাকে এলাকায় সাংগঠনিক কাজ জোরদার করার চিঠি পাঠায়। এরা হলেন—জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-৪), গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি (ঢাকা-১২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩), সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (ঝিনাইদহ-২) এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা (কিশোরগঞ্জ-৫)।

সম্প্রতি বিএনপি ১২-দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলেছে। এছাড়া মোস্তফা জামাল হায়দারকে পিরোজপুর-১, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে ঢাকা-১৭, এবং এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে ঢাকা-১৩ আসন থেকে কাজ শুরু করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

১২-দলীয় জোট ইতোমধ্যে বিএনপিকে ২০ আসনের তালিকা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের অন্তত ৪০-৫০ আসন দেওয়া হবে।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, "আমাদের কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। সবাইকে মাঠে নামানো হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি সঠিক। যদিও কিছুটা আগে হলে আরও সুবিধা হতো।

No comments

Powered by Blogger.