Header Ads

ডাকসু নেতাদের তীব্র প্রতিবাদ ফজলুর রহমানের মন্তব্যের

            
                                                        

ডাকসু নেতাদের তীব্র প্রতিবাদ ফজলুর রহমানের মন্তব্যের



 বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা (যার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে) অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতারা।

তাদের অভিযোগ, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া মস্তিষ্ক’, ‘ট্রেন্ডে গা ভাসানো’, ‘দাসী’ ও ‘পশ্চাদপদ’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু অযৌক্তিক নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সম্মান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত। একই সঙ্গে হাটহাজারি মাদরাসার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলনা করাকে তারা “বর্ণবাদী ও ঘৃণ্য” মন্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

রোববার রাতে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক বিবৃতিতে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার জায়গা। এটি দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বহুসাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন বিভেদমূলক মন্তব্য শুধু শিক্ষার্থীদের অপমান নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসকেও কলঙ্কিত করে। তিনি অবিলম্বে ফজলুর রহমানকে শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল বাংলার বঞ্চিত মানুষের স্বার্থরক্ষায়। আজ মক্তব ও মাদরাসা থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে, তখন একটি মহল অস্বস্তি বোধ করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন— সমাজের একটি শ্রেণীকে অচ্ছুত হিসেবে উপস্থাপন করা কি বর্ণবাদ নয়? মহিউদ্দিন আরও সতর্ক করে বলেন, বাইরের কোনো শক্তি যদি রাজনৈতিক হতাশা থেকে শিক্ষার্থীদের ছোট করার চেষ্টা করে, তবে ডাকসু শিক্ষার্থীদের নিয়েই তার জবাব দেবে।

অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদে ডাকসুর পক্ষ থেকে মানববন্ধনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে, যার উদ্যোগ নিয়েছেন ডাকসু সদস্য তাজিনুর রহমান।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকেও আলাদা এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে নিয়ে প্রচারিত অসত্য তথ্যের নিন্দা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, উপাচার্য জীবনের কোনো সময়েই কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত ছিলেন না। তাই তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের অসত্য প্রচার শুধু উপাচার্যের ব্যক্তিগত মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি টকশোতে অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনকে ‘সিনিয়র মাদরাসার ইলেকশন’ বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়ানো হয়, যা ডাকসুর নির্বাচনী পরিবেশ পরিবর্তন করেছে।

তিনি বলেন, হাটহাজারি মাদরাসায় যত শিক্ষার্থী আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় একই রকম, ফলে ডাকসুর নির্বাচন মূলত মাদরাসা ছাত্রদের প্রভাবিত নির্বাচনে পরিণত হয়েছে। তার অভিযোগ, আলিম পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভালো নম্বর পেলেও ইংরেজি বিষয়ে দুর্বল থাকে, অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।

তার মতে, এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামপন্থি ও শিবিরপন্থি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.