সাংবাদিককে জনসম্মুখে কুপিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে
গাজীপুরে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মহানগরীর ব্যস্ত চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, গত বুধবার বিকেলে শহরের সাহাপাড়া এলাকায় আরেক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সৌরভকে সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে পা ও শরীর থেঁতলে আহত করেছে। উভয় ঘটনাই চাঁদাবাজির জের থেকে ঘটেছে।
নিহত সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) ছিলেন দৈনিক প্রতিদিন পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একটি ইউনানি ওষুধ কোম্পানির গাজীপুরের ডিলার ছিলেন। তুহিন নগরীর পালের মাঠ এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে, পাঁচ ও দুই বছর বয়সী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পাঁচ-ছয়জন সন্ত্রাসী বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় তুহিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করে। তিনি দৌড়ে মসজিদ মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন, কিন্তু সন্ত্রাসীরা দোকানের মধ্যে ঢুকে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে তুহিন মারা গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
চা দোকানের মালিক খায়রুল ইসলাম জানান, তিনি দোকানে বসেছিলেন, হঠাৎ তুহিন দৌড়ে এসে দোকানে ঢুকে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তিনজন সন্ত্রাসী দোকানের মধ্যে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। দোকানের বাইরে আরও দুইজন রামদা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে মারার হুমকি দেয়। অনেক লোক ঘটনাটি দেখলেও কেউ তুহিনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
আহত সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সৌরভ (৩৫) দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি। তিনি সাহাপাড়া এলাকায় বাস করেন। সন্ত্রাসীরা তাকে প öffentlichen জায়গায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। তার আহত হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ আহত সৌরভকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
সাংবাদিক তুহিন চান্দনা চৌরাস্তায় ফুটপাত ও দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। কিছুদিন আগে বাসন থানা পুলিশ ফুটপাত ও আশপাশের চাঁদাবাজি বন্ধ করেছিল। কিন্তু চাঁদাবাজির পুনরায় শুরু হলে গতকাল বিকেলে তুহিন মোবাইলে ভিডিও করে সেখানকার চাঁদাবাজির দৃশ্য ধারণ করেন এবং ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ করে আক্রমণ চালায় এবং হত্যা করে।
ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আলেম সমাজ তুহিনের হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে, তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
সদর মেট্রো থানার ওসি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সৌরভের মা আনোয়ারা সুলতানা তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন এবং ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। পুলিশ একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।


No comments