সরকারের বেঁধে দেওয়া ২৭ টাকার সার কেন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়?
গ্রামের মাঠে এখন আমন ধানের আবাদ ও শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতি চলছে। তবে এ মৌসুমে কৃষকরা বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় সার কেনার খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।
সরকার যেখানে টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার কেজিতে ২৭ টাকা দাম নির্ধারণ করেছে, সেখানে স্থানীয় বাজারে এটি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে জানা গেছে, সারের বাজারে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। কৃষি অফিস ও ডিলারদের কাছ থেকে সরকারি সারের যোগান কম পাওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ডিলার সরকারি গুদামের সার রাতের আঁধারে পাচার করে কালোবাজারে বিক্রি করছেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের হাজী জাহাঙ্গীর, দোগাছী ইউনিয়নের উজ্জ্বল হোসেন, শৈলকুপার দুধসর ইউনিয়নের সাইয়ুব আলী জোয়ার্দার, হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার মাহবুব হোসেন ও কাপাসাটিয়া ইউনিয়নের সোনা জোয়ার্দার দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন।
এই সিন্ডিকেট ইউরিয়া সার কেজিতে ২৭ টাকার বদলে ৩০ থেকে ৩২ টাকা, এমওপি ২০ টাকার বদলে ২৭ থেকে ৩০ টাকা, ডিএপি ২১ টাকার বদলে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং টিএসপি ২৭ টাকার বদলে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সারের ডিলার জানান, “এ অঞ্চলে সবজি চাষ বেড়েছে, তাই টিএসপি সারের চাহিদাও বেশি। এর ফলে কিছু ডিলার টিএসপি সার বেশি দামে বিক্রি করছে।”
সদর উপজেলার চাপড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ মল্লিক বলেন, “আমি চার বিঘা জমিতে বেগুন ও কাঁচা মরিচ চাষ করেছি। টিএসপি সার না পেয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সরকারি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না, ডিলাররা বলে সার শেষ। পরে অন্য এক কৃষককে দিয়ে ওই সার ৬২ টাকা কেজি দরে কিনিয়েছি।”
শৈলকুপার শেখড়া গ্রামের কৃষক গোলাম নবী অভিযোগ করেন, “প্রতি মৌসুমেই একই অবস্থা। ডিলাররা সরকারি দামে সার দেয় না। কৃষি অফিসকে জানানো হলেও তারা তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে আমরা সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে অসহায়।”
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেন বলেন, “প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়। যারা কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছেন, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যা বাজারেও প্রভাব ফেলবে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্ঠী চন্দ্র রায় কালের কণ্ঠকে জানান, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে এবং কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে বিক্রি করছে। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি এবং কয়েকজন ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। আশা করছি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।
.jpg)

No comments