বিতর্কিত ৩ নির্বাচনের সব দায় চাপানো হয়েছে আমাদের উপরে
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে প্রকৃতভাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপজেলা নির্বাচন অফিসার কল্যাণ পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন যে, সব অনিয়মের দায় তাদের ওপর চাপানো হয়েছে, যদিও তাদের এই নির্বাচনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল না। তারা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে তারা আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে চান।
এছাড়া, আগামী সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পদ ষষ্ঠ গ্রেডে এবং সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার, আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন/সমমান কর্মকর্তা কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সভায় নেতারা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সভায় সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ ছিল যে, অতীতের নির্বাচনগুলোতে কমিশনের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরপরও সব অনিয়মের দায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর এসে পড়ে। তাদের আরও দাবি ছিল, তারা ১৫-২০ বছর একই পদে কর্মরত থাকলেও অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে, যার ফলে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে কমিশনের কর্মকর্তাদের। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তারা ইলেকটোরাল সার্ভিস গঠনের দাবি জানান।
সংগঠনের আহ্বায়ক ও উপজেলা কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে কমিশনের কর্মকর্তাদের কোন মূল ভূমিকা ছিল না, তবে ওই নির্বাচনের জন্য আমাদের দায়ী করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এখন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই, এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
সংগঠনের সদস্যসচিব মো. ইউসুফ-উর-রহমান বলেন, "আমরা জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এজন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের সার্ভিস কমিশন গঠন এবং পদোন্নতির প্রয়োজন।"
এ সময় তারা চারদফা প্রস্তাব পেশ করেন:
-
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ গঠন করা।
-
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ষষ্ঠ গ্রেডে এবং সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ নবম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
-
আগামী নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য ডাবল-কেবিন পিকআপ এবং সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য মোটরসাইকেল বরাদ্দকরণ।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০২৩ বাতিল করে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম পুনরায় নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করা।


No comments