বাংলাদেশের মানুষ আর প্রতিহিংসার রাজনীতি ফিরে যেতে চায় না: তারেক রহমান
বিভেদ–বিরোধ ও প্রতিহিংসা–প্রতিশোধের রাজনীতি আর চায় না বাংলাদেশের মানুষ—এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি পরিণত দেশ। এই পরিণত বাংলাদেশে জনগণ চায় না কোনো বিভেদ, বিরোধ কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি। জনগণ এখন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চায় গুণগত পরিবর্তন।
রোববার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রদল।
তারেক রহমান বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ বিএনপি আগামী দিনে মানবিক মানুষ তৈরির রাজনীতি শুরু করতে চায়। তিনি জানান, বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল লক্ষ্য হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বর্তমান জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করা। এ ছাড়া, মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ কর্মমুখী শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দিকেও দলটি কাজ করছে।
শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য ‘ফ্যাসিস্ট চক্রকে’ দায়ী করে তারেক রহমান বলেন, তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছে।
কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি শিক্ষা কারিকুলামে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যেসব ক্ষেত্রে আগ্রহ আছে, সেই অনুযায়ী স্কুল থেকেই ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বেকার বসে থাকতে হবে না। কর্মমুখী শিক্ষা থাকলে তারা দ্রুত চাকরির সুযোগ পাবে।
এর আগে দুপুর আড়াইটায় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। পরে বেলা সোয়া তিনটার দিকে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এরপর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমাবেশের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
.jpg)

No comments