দুই ভাইসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ
বরিশালের মুলাদীতে জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। ৫০ বছর বয়সী রিপন ব্যাপারীকে স্বজনরা বেঁধে নির্যাতন করে তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পরিবারের পুরুষদের পাশাপাশি দুই নারীও সহযোগিতা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, হাত–পা বাঁধা অবস্থায় রিপন অসহায়ভাবে ছটফট করছেন, আর তাঁকে নির্মমভাবে আঘাত করা হচ্ছে।
বর্তমানে রিপন ব্যাপারী ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি আর কোনোদিন দেখতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে, কিন্তু চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে দৃষ্টিশক্তি ফেরানো সম্ভব নয়।
পরিবারের অভিযোগ ও পটভূমি
রিপনের দাবি, তাঁর নিজের টাকায় কেনা জমি ভাইয়েরা নিজেদের নামে দলিল করে নেন। পরে ওই সম্পত্তির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২২ আগস্ট রাতে বাড়িতে ফেরার পর এই ঘটনার শিকার হন তিনি। রিপনের বক্তব্য,
“টাকাপয়সার হিসাব পরে করা যেত, আগে আমাকে এভাবে কেন মারল, সেটার বিচার চাই।”
রিপনের স্ত্রী নূরজাহান বেগম বলেন,
“আমার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করত, তবে পুলিশের হাতে দিতে পারত। চোখ উপড়ে নেওয়ার মতো কাজ কীভাবে করল? এখন আমার কিছুই করার নেই।”
রিপনের দুই ছেলেই রিকশাচালক, আর স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। পরিবারটি ঢাকার রায়েরবাজার এলাকায় বসবাস করছে।
মামলা ও আসামির তালিকা
২৫ আগস্ট রিপনের স্ত্রী নূরজাহান বেগম বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় রিপনের বাবা আর্শেদ ব্যাপারী, দুই ভাই রোকন ও স্বপন ব্যাপারী, রোকনের স্ত্রী নুরনাহার বেগমসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রিপনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হলেও জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। পরে নির্যাতন চালিয়ে তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়।
ঘটনার পর অচেতন অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মুলাদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক না পাওয়ায় ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পরদিন তাঁকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখান থেকেও মামলার জন্য মুলাদী থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি, বরং আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
চিকিৎসকদের বক্তব্য
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রিপনের চোখে কৃত্রিম সিলিকন বল বসানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে চোখের মতো কৃত্রিম ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। তবে দৃষ্টিশক্তি ফেরানো সম্ভব নয়। হাসপাতালের পরিচালক বলেন,
“রোগীর অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা।”
পরিবারের ক্ষোভ
রিপনের ছেলে শাহেদুল ইসলাম জানান, ভিডিওতে দেখা গেছে, তাঁর চাচা রোকন ব্যাপারী চোখ উপড়ে নিচ্ছেন। আর দাদা এ কাজে নির্দেশ দিয়েছিলেন। শাহেদুল বলেন,
“এমন পরিবারের সন্তান হওয়াটা লজ্জাজনক। আমরা শুধু ন্যায্য বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, মামলার এক আসামি স্বপন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিরা এখনো পলাতক।
সমাজের প্রতি আহ্বান
নূরজাহান বেগম জানান, ধারদেনা করে স্বামীকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা করাচ্ছেন। তিনি সমাজের কাছে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা কামনা করেছেন।


No comments