আন্দোলনের সময় তৌহিদ আফ্রিদি ছাত্রদের নগ্ন ভিডিও সংরক্ষণ করতেন
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার মো. আসাদুল হক বাবু হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। রবিবার রাতে সিআইডি তাকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে জানা গেছে, আন্দোলনের সময় তৌহিদ আফ্রিদি কিছু ছাত্রদের জিম্মি করে নগ্ন ভিডিও সংরক্ষণ করতেন। সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন এই দাবি উত্থাপন করেন।
আইনজীবী নয়ন জানান, তৌহিদ আফ্রিদিকে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ খুঁজছিল। সিআইডি গতকাল বরিশালে তাকে ধরে আদালতে হাজির করেছে। আদালতে উভয় পক্ষের শুনানির পর তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান তৌহিদ আফ্রিদির ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে রবিবার রাতেই সিআইডির একটি দল তাকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে তার বাবা ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে এই মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর অনুমতি দেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়, গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার পাকা রাস্তার উপর আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। ওইদিন আসামিদের ছোড়া গুলিতে তার বুকে ও ডান পাশে আঘাত লাগে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ৩০ আগস্ট নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নম্বর, আর তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে রয়েছে।


No comments