ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলের অধিকার
![]() |
| তারেক রহমান |
ChatGPT said:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, “আমি এবং বিএনপি বিশ্বাস করি—দলমত, ধর্ম, দর্শন ভিন্ন হলেও রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আগামী জাতীয় নির্বাচন আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনদের উদ্দেশে বলতে চাই, এই নির্বাচনে বিএনপি আপনাদের সমর্থন ও সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।”
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ যাত্রা ঝুঁকিমুক্ত নয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনা করেন দলের ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, মহাসচিব এস এন তরুণ দে, বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, “এক দশকেরও বেশি সময় জনগণ এক ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসন, নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কংসরূপী ফ্যাসিস্টের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে। এখন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে। তবে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বক্তব্য, শর্ত বা প্রস্তাব জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে—এই আশঙ্কায় পলাতক স্বৈরাচার ‘বিএনপির বিজয় ঠেকাও’ ধরনের অপরাজনীতি শুরু করেছিল। তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এবার ক্ষমতাসীন সরকার নয়, বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধা কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচরণেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যারা মনে করছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিজয়ী হবে, আর সেই আশঙ্কা থেকে নানা শর্ত ও কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন—তাদের বলব, রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করুন। জনগণের শক্তির ওপর আস্থা রাখুন। যদি জনগণ বিএনপিকে বিজয়ী করে, তবে সেই বিজয় ঠেকাতে গিয়ে জনগণের রায় রুদ্ধ করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি অনেকের আলোচনায় এসেছে। তবে দেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি এখনো উপযোগী নয়। জনগণের অধিকার রয়েছে সরাসরি জানার, তারা কাকে ভোট দিচ্ছেন এবং কে তাদের প্রতিনিধি হবেন। কিন্তু PR পদ্ধতিতে সে সুযোগ নেই। তাই জনগণের আস্থা অর্জন করে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমেই রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিকে দায়িত্ব নিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, “গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা থাকাটা স্বাভাবিক এবং এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব ইস্যুর সমাধান হবে। তবে যারা নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছেন, তারা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকেই বাধাগ্রস্ত করছেন এবং পতিত স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করছেন।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “ধর্মীয় পরিচয়কে কেউ যেন নিজের হীন বা দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। অতীতে আমরা দেখেছি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে এগুলোর বেশিরভাগই ছিল অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত বা অবৈধ লোভ-লাভের কারণে।


No comments