Header Ads

নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা রাজপথে নেমেছি: নাহিদ ইসলাম

                   
                             

নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা রাজপথে নেমেছি: নাহিদ ইসলাম



জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “বিচার, সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি। সেই নতুন সংবিধানে থাকবে আমাদের অধিকার ও মর্যাদার কথা, সিলেটবাসীর সম্মানের কথা।”

শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের চৌহাট্টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনসিপির পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে চৌহাট্টা থেকে এনসিপির নেতা-কর্মীরা পদযাত্রা শুরু করে, যা নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণের পর শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “যে দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নে সিলেট অঞ্চলের ১৭ জনেরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেই শহীদদের রক্তের শপথ নিয়েই আজ সিলেটে এসেছি।”

তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সিলেটের প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং জানান, সিলেটকে এনসিপির অন্যতম দুর্গ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, “তেল, গ্যাস, খনিজ এবং পাথরসমৃদ্ধ এই অঞ্চলকে আমরা আধুনিক শিল্পোন্নত শহরে রূপান্তর করতে চাই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে এনসিপি কাজ করবে।”

তিনি আরও জানান, জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকায় যে সমাবেশ হবে, তাতে সবাইকে অংশ নিতে হবে।

সিলেটের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সিলেট শুধু একটি প্রশাসনিক জেলা নয়, এটি ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সাম্প্রতিক ‘জুলাই অভ্যুত্থান’—সব ক্ষেত্রেই সিলেট ছিল সামনে থেকে নেতৃত্বদানকারী।”

“আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ, এনসিপি এসেছে পরিবর্তন আনতে”

পথসভায় দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “এনসিপি চাঁদাবাজ বা টেন্ডারবাজদের দল নয়। আমরা সংকট ও ফ্যাসিবাদ থেকে উঠে এসেছি। আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ করে এনসিপি এসেছে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। আপনারা এনসিপিকে শক্তিশালী করুন, আমরা জনগণের জন্য ক্ষমতা ফিরিয়ে আনব।”

তিনি বলেন, “আজ দেশের ওপর আবারও ‘মুজিববাদের পাহারাদার’ বসানো হচ্ছে। এতদিন দেশটি ছিল ধনিক শ্রেণি, বসুন্ধরা গ্রুপ, প্রশাসন ও আর্মিদের হাতে। এনসিপি নেতৃত্বে আমরা এই দেশ জনগণের হাতে তুলে দেব।”

“আমরা অ্যান্টি-বিএনপি নই, আমরা অ্যান্টি-সিন্ডিকেট”

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “অনেকে বলে আমরা অ্যান্টি-বিএনপি। আমরা বিএনপি, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান বা জিয়াউর রহমানের বিরোধী নই। তবে আমরা চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসীদের কোনো ঠাঁই দিতে রাজি নই।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যারা আমাদের সঙ্গে থাকবে, তাদেরকে মেনে চলতে হবে—বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট চলবে না। জনগণের রাজনীতিই হবে আমাদের রাজনীতি।”

সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতারা

পথসভা সঞ্চালনা করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক অর্পিতা শ্যামা দেব ও এহতেশাম হক, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব জাহেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল হুদা জুনেদ, সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন শাহান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ার, যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশ এবং জ্যেষ্ঠ মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

এর আগে, সুনামগঞ্জে পদযাত্রা ও সভা শেষে সিলেটে ফেরার পথে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আসাদুল্লাহ আল গালিব।

এনসিপির স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।

No comments

Powered by Blogger.