হামলা-হুমকির মধ্যেও রাজপথ ছাড়বে না এনসিপি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীরা একাধিকবার বাধা ও হামলার শিকার হয়েছেন। গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং দফায় দফায় হামলা চালায়। একই ধরনের হামলা ঘটে কক্সবাজারেও, যেখানে এনসিপির পথসভার মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে হুমকি, বাধা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নতুন এ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। দলটি জুলাই ২০২৩-এর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নিয়ে গঠিত।
এনসিপির নেতারা এসব হামলা ও বাধাকে তাদের রাজনীতি থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পুরোনো ধাঁচের রাজনীতিতে অভ্যস্ত। তাই তারা নতুন ধারার রাজনীতিকে মেনে নিতে পারছে না। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা তাদের দমাতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপি নেতারা।
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে পদযাত্রা চলাকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সমাবেশ মঞ্চসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেন এবং জেলা কারাগার চত্বরে গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা সেনাবাহিনীর এপিসি চড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
এরপর ২০ জুলাই বান্দরবান যাওয়ার পথে কক্সবাজারে এনসিপির নেতারা আবারো বাধার মুখে পড়েন। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের জেরে ঈদগাহ, চকরিয়া, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় পূর্বনির্ধারিত পথসভা বানচাল হয়ে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এনসিপির গাড়িবহরকে দুই ঘণ্টা চকরিয়ার হাঁসের দীঘি আর্মি ক্যাম্প এলাকায় আটকে রাখে। পরে সেনাসদস্যদের নিরাপত্তায় বহরটি চকরিয়া এলাকা অতিক্রম করে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিযোগ, এসব বাধা ও হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রয়েছে। দলের যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, “আমাদের যেন রাজনীতি করতে না পারি, সেজন্য হামলা ও হুমকির মাধ্যমে দমন করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু খুনি হাসিনাও আমাদের থামাতে পারেনি, অন্য কেউও পারবে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে রাজনীতি করছি, আর সেই রাজনীতি চালিয়ে যাব।”
দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ বলেন, “আওয়ামী লীগ পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি করে। তারা হামলা, মামলা ও ভয় দেখানোর মাধ্যমে আমাদের থামাতে চায়। কিন্তু তারুণ্যের গণজোয়ার তারা ঠেকাতে পারছে না। শেখ হাসিনার আমলেও আমরা আরও কঠিন সময় অতিক্রম করেছি। এবারও পারবো।”
তিনি আরও বলেন, “এসব বাধা আমাদের আরও সংগঠিত করছে। প্রকৃত কর্মীদের চিনে নিতে সাহায্য করছে। আগে অনেকে ভাবতো আমরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনীতি করছি। কিন্তু এখন এটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সরকার ন্যূনতম নিরাপত্তাও অনেক সময় দিতে পারছে না।”
দলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা জানি, আমাদের লড়াই কঠিন। এ পথ আমরা জেনেশুনেই বেছে নিয়েছি। শেখ হাসিনা আমাদের দমাতে পারেনি, এখন কেউ পারবে না। আমাদের সংগ্রাম থামেনি। নতুন বাংলাদেশের জন্য এই লড়াই চলবেই।”
চট্টগ্রামে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এক ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে আছি। গোপালগঞ্জে যা হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। বিভিন্ন জায়গায় নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা দোয়া চাই—কারণ আপনাদের দোয়া আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “মুজিববাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম আমরা শুরু করেছি, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু করেছি, তা আমরা শেষ না করে থামবো না। আরও একটি বড় লড়াই আসছে, আমরা তার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এভাবেই এনসিপি নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—হামলা, হুমকি ও রাজনৈতিক বাধা তাদের পথ আটকাতে পারবে না। তারা বলছেন, নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তুলতেই তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।


No comments