Header Ads

পোড়া বাচ্চাটি দৌড়াচ্ছে, কেউ ধরছে না—সবার নজর শুধু ভিডিওতে

                       

পোড়া বাচ্চাটি দৌড়াচ্ছে, কেউ ধরছে না—সবার নজর শুধু ভিডিওতে


           

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ১৬৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি কুর্মিটোলার এ কে খন্দকার ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই এটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার আগে বিমানটি ফাঁকা স্থানে নামিয়ে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে গিয়ে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার মুহূর্তে ক্যাম্পাসে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী জানান, “আমি আমার সন্তানকে খুঁজছিলাম। দশ-বারো মিনিট পর খুঁজে পাই। এর মধ্যে অনেক ভয়াবহ দৃশ্য দেখি। একটা শিশু উলঙ্গ হয়ে দৌড়াচ্ছিল, শরীরের চামড়া উঠে গেছে। কেউ তাকে ধরছে না, বরং ভিডিও করছে।”

তিনি বলেন, “বাচ্চারা ভ্যানে করে বের হচ্ছিল, কেউ কেউ নিজের জোরে দৌড়ে পালিয়ে আসছিল। আমার বাচ্চাটাও ওই অবস্থায় পড়তে পারত। আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন।”

বিমানটি ছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই মডেলের। এটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই উড্ডয়ন করেছিল। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানসেনা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ অনেকের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। এটি জাতির জন্য এক গভীর বেদনার ক্ষণ।”

তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে বলেও জানান।

No comments

Powered by Blogger.