Header Ads

জুলাই সনদ আইনের চেয়ে বড়

   

                        

জুলাই সনদ আইনের চেয়ে বড়




জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে একমত নয় বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, "জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতেই আমরা এই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা। এর চাইতে বড় জাতীয় সম্মতি কিছু হতে পারে না। এটি আইনের চেয়েও বড়। এটি জনগণের অভিপ্রায় এবং একটি সার্বভৌম বিষয়ের কাছাকাছি।"

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপের ২৩তম দিনের এক বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, "আমরা প্রস্তাব করেছি, উচ্চকক্ষ কেবল আইন পর্যালোচনা ও সুপারিশ করবে। কোনোভাবেই তারা সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার পাবে না। কারণ উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হবেন না। এ অবস্থায় তাদের দিয়ে সংবিধান সংশোধনের চিন্তা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার কেবল জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতেই থাকা উচিত।"

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, "আমরা চাই উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথভাবে পাস হওয়া আইনের মাধ্যমে একটি ভাগাভাগির আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া গড়ে উঠুক। উচ্চকক্ষ সুপারিশ করবে, পর্যালোচনা করবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে নিম্নকক্ষে। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—উচ্চকক্ষের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন আমরা মেনে নেব না।"

তিনি অভিযোগ করেন, "কিছু পক্ষ সংবিধান সংশোধনকে কঠিন করতে ও ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখতে অনির্বাচিত বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত সদস্যদের দিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের পরিকল্পনা করছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"

৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, "আমরা আগেই প্রস্তাব করেছিলাম যে, কিছু ব্যতিক্রম রেখে সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকতে হবে। আজ সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা দলীয় চাপে থাকবেন না, বরং গোপন ব্যালটে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।"

তিনি জানান, যদি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন হয়, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উচ্চ ও নিম্নকক্ষ উভয়ের সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট দেবেন।

তিনি আরও বলেন, "সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বর্তমানে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে স্বাধীনভাবে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে বিএনপি মনে করে রাষ্ট্রপতির আরও কিছু স্বাধীন দায়িত্ব থাকা উচিত। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।"

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সংসদে একটি মধ্যবর্তী বিধান যুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে কমিশন একটি সিদ্ধান্ত দেবে।

No comments

Powered by Blogger.