Header Ads

বিএনপিকে ‘নিয়ন্ত্রণে আনতে’ নতুন সংস্কার প্রস্তাব

           
                             
                                  

বিএনপিকে ‘নিয়ন্ত্রণে আনতে’ নতুন সংস্কার প্রস্তাব





বিএনপি মনে করে, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ নামে পরিচিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে দলটিকে রাজনৈতিকভাবে বাঁধার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে, রাজনৈতিক দলের প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার প্রস্তাবকে বিএনপি অযৌক্তিক ও গণতন্ত্রবিরোধী মনে করছে। দলটি জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেবে।

সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে নেতারা বলেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশগুলোতে দলীয় প্রধানই সাধারণত প্রধানমন্ত্রী হন। বাংলাদেশেও সেই রেওয়াজ অনুসৃত হয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তাবিত বাধা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি মনে করে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দলটির সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের ‘চেইন অব কমান্ড’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের সংসদীয় দলই সিদ্ধান্ত নেয় কে হবেন প্রধানমন্ত্রী। কোনো আইন বা কমিশনের প্রস্তাব দিয়ে তা আটকে দেওয়া উচিত নয়। কারণ, এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ফলে দলীয় প্রধান যদি সংসদীয় দলের আস্থা পান, তবে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য উপযুক্ত।

তারা আরও বলেন, বিএনপি সংস্কারের পক্ষে—সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালেই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষ করে বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে এগুলো সামনে আনা হচ্ছে। কারণ, সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপিরই ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি—বিভিন্ন জরিপেও সেটি উঠে এসেছে।

বৈঠকে নেতারা উদাহরণ দেন, যুক্তরাজ্যে দলীয় প্রধানরাই প্রধানমন্ত্রী হন। ভারতে জওহরলাল নেহরু ও লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বাংলাদেশেও অতীতে সবসময় দলীয় প্রধানরাই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমনকি নির্বাচনেও দলের প্রধানের নাম ও নেতৃত্বই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সে দিক বিবেচনায়, দলীয় প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার প্রস্তাব ‘অযৌক্তিক’।

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তারা যুগপৎ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশীদারদের নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করবেন। যারা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করবেন, তারা বিএনপি প্রধানের নেতৃত্ব মেনেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। সুতরাং দলের প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী না বানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা তারা মানবে না।

এই ইস্যুটি সম্প্রতি ঐকমত্য কমিশনের সংলাপেও আলোচনায় এসেছে। বিএনপি, এলডিপি, লেবার পার্টি, এনডিএম, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও আম জনতার দল মত দিয়েছে—একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বেশিরভাগ দল এর বিরোধিতা করেছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের ১৭তম দিনে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলে তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারবেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংলাপে অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না—এমন কোনো বিধান উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নেই। এটি একজন নির্বাচিত নেতার সাংবিধানিক অধিকার। পার্লামেন্টারিয়ানরা যাকে চাইবেন, তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপি মনে করে, সংসদীয় গণতন্ত্রে কার্যকর সরকার চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা উচিত। তারা রাষ্ট্রপতির কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে। তবে রাষ্ট্রপতির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিলে সংসদের কার্যকারিতা হারাবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে সোমবার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। নিহত শিক্ষার্থী, পাইলট ও আহতদের জন্য মাগফিরাত ও সুস্থতা কামনা করে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানানো হয়।

No comments

Powered by Blogger.