পরবর্তী সরকারের জন্য সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করা সহজ হবে না
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, জনগণের সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করা পরবর্তী সরকারের পক্ষে সহজ হবে না।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "গণ-অভ্যুত্থানে হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, বহু মানুষ চিরতরে অঙ্গহানি হয়েছে। এই ত্যাগের পর যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদের জন্য জনগণের সংস্কারের প্রত্যাশা উপেক্ষা করা সহজ হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এর আগে কখনো রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এত বড় ত্যাগ স্বীকার করেনি।"
তিনি আরও বলেন, "এত রক্তক্ষয়ের পরও যদি কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না আসে, তাহলে আগামী দুই দশকেও আর সংস্কার সম্ভব হবে না।"
বিচার বিভাগের প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন, "বিচার বিভাগে রাজনৈতিক সরকারের কিছুটা প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিরপেক্ষ কাঠামো গঠনের জন্য যে আইন পাস হয়, যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, পরবর্তীকালে রাজনৈতিক স্বার্থে সেই আইন বাতিল করে দেওয়া হয়। এই ধরনের চর্চা রাষ্ট্রকে অকার্যকর করে তোলে।"
এই পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং আইনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি আইনজীবীদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "নিম্ন আদালতগুলোতে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে, সরকারি আইনজীবী হয়েও কেউ কেউ আর্থিক প্রলোভনে প্রতিপক্ষের পক্ষে কাজ করেন। এতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত ‘সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস অধ্যাদেশ-২০২৫’ বাস্তবায়িত হলে এ সমস্যার সমাধান হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা পাবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফসহ অনেকে।


No comments