সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে গণতন্ত্রের উত্তরণ ঝুঁকিতে পড়বে: তারেক রহমান
নির্বাচনকালীন সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত দেশের গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে সংকটে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদী অপশক্তি রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ নিতে ওঁতপেতে রয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। গত বছর ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্মরণে ঢাকা জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
তারেক রহমান বলেন, “শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে পতিত, পলাতক, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী অপশক্তি রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে ফেরার সুযোগের অপেক্ষায় আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। উগ্রবাদ, চরমপন্থা এবং ফ্যাসিবাদ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জনগণের মুখাপেক্ষী করা গেলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন সম্ভব। তখন জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতাও নিশ্চিত করা যাবে। কয়েকজনের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলে দিতে জনগণ দেড় দশক ধরে আন্দোলন করেনি, কিংবা জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে শহীদ হননি। জনগণ রাষ্ট্র এবং সরকারে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই ফ্যাসিবাদ হটিয়েছে, জীবন উৎসর্গ করেছে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “যেই সরকারেই থাকুক, রাষ্ট্র চালাতে হলে তাকে জনগণের কথা শুনতে হবে, তাদের আশা-ভাষা বুঝতে হবে। জনপ্রতিনিধি হতে হলে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে। বিএনপি এই জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনীতির মাধ্যমেই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চায়।”
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ হটিয়ে জনগণই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দিয়েছে। এখন সময় এসেছে জনগণের মালিকানা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়ার। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে যেসব বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তাতে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে যে তাদের একটি অংশ নানা অপকৌশল নিচ্ছে। শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয় সরকার, জাতীয় নির্বাচন—সব ক্ষেত্রেই বিএনপি জনগণের ভোটে প্রতিনিধিত্ব চায়। কিন্তু এসব নির্বাচন নিয়ে সরকার যেভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তা যথাযথ এবং বিচক্ষণ কি না, সেটা এখন বড় প্রশ্ন।”
শহীদদের স্মরণে বিশেষ স্থাপনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “শহীদরা কেবল একটি সংখ্যা নয়। একেকটি প্রাণের হারিয়ে যাওয়া মানে একটি পরিবারের স্বপ্ন-সম্ভাবনার মৃত্যু। তবে শহীদদের আত্মত্যাগেই দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। দেশ এই শহীদ সন্তানদের কাছে ঋণী। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সাভার-আশুলিয়াসহ সুবিধাজনক স্থানে শ্রমজীবী শহীদদের স্মরণে বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করবে।”
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আল্লাহ যেন সব শহীদকে কবুল করেন, আহতদের দ্রুত আরোগ্য দান করেন—এই দোয়া করছি। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যরা যাতে তাদের আত্মত্যাগ নিয়ে গর্ব করতে পারেন, সেজন্য আজকের এ আয়োজন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক।


No comments