সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমেছে
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন পাঁচটি সঞ্চয় প্রকল্পে মুনাফার হার কমিয়ে নতুন হার নির্ধারণ করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। রাষ্ট্রপতির আদেশে গতকাল সোমবার (৩০ জুন) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা আজ মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কিমভেদে মুনাফার হার ১১.৮২ শতাংশ থেকে ১১.৯৮ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১২.২৫ থেকে ১২.৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।
এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সহকারী সচিব মো. মোবারক হোসেন।
যেসব স্কিমে মুনাফার হার কমানো হয়েছে:
১. পরিবার সঞ্চয়পত্র
২. পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
৩. তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
৪. পেনশনার সঞ্চয়পত্র
৫. ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাব
আগের মতোই বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি স্তর বজায় রাখা হয়েছে—
-
প্রথম স্তরে রয়েছেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগকারীরা।
-
দ্বিতীয় স্তরে আছেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা।
যেসব স্কিমের মুনাফার হার অপরিবর্তিত:
-
ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড
-
ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড
-
ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড
-
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব
বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফার হার:
🔹 বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বা বেশি উভয় ক্ষেত্রেই নতুন মুনাফার হার: ১১.৮৩%
-
আগে ছিল যথাক্রমে: ১২.৪০% ও ১২.৩৭%
-
প্রথম চার বছরে ধাপে ধাপে মুনাফা কিছুটা কম পাওয়া যাবে।
🔹 তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র (৩ বছর মেয়াদি)
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার নিচে: ১১.৮২% (আগে: ১২.৩০%)
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি: ১১.৭৭% (আগে: ১২.২৫%)
-
প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।
🔹 পেনশনার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার নিচে: ১১.৯৮% (আগে: ১২.৫৫%)
-
এর বেশি হলে: ১১.৮০% (আগে: ১২.৩৭%)
-
প্রথম চার বছরে ধাপে ধাপে মুনাফা কমে আসবে।
🔹 পরিবার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার নিচে: ১১.৯৩% (আগে: ১২.৫০%)
-
এর বেশি হলে: ১১.৮০% (আগে: ১২.৩৭%)
-
প্রতি বছর মুনাফা ধাপে কমে আসবে।
🔹 ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক মেয়াদি হিসাব (৩ বছর মেয়াদি)
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার নিচে: ১১.৮২% (আগে: ১২.৩০%)
-
এর বেশি হলে: ১১.৭৭% (আগে: ১২.২৫%)
অর্থনীতিবিদদের মতামত:
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের সামগ্রিক সুদহারের বর্তমান প্রবণতা এবং আর্থিক খাতের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনেই মুনাফার হার কমানো হয়েছে। তবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এতে স্বল্প আয়ের মানুষ ও অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।


No comments