হাদি ইস্যুতে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সভায় বিএনপি কেন উপস্থিত ছিল না?
রাজধানীর শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত না থাকার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সমাবেশটি শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত হয়েছিল। হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ জাবের জানান, "বিএনপি সরাসরি উপস্থিত না হলেও ইনকিলাব মঞ্চের সকল আন্দোলনে তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছে।" বিএনপির প্রতিনিধি না থাকলেও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এবং দেশের বিভিন্ন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম "একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব" মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া, এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহও সেভেন সিস্টার্স (ভারতের সাতটি পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য) ভারতের কাছ থেকে আলাদা করার হুমকি দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।
বিএনপির কয়েকজন নেতা এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চায়নি। দলের এক স্থায়ী কমিটির সদস্য জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ায় এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের সম্ভাবনা থাকায় তারা সভায় সরাসরি উপস্থিত হননি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাদি আহত হওয়ার পর বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাস যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তা শহীদ মিনারে দলের নেতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখে।
সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন সাবেক খালেদা জিয়া সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ও বর্তমানে দৈনিক ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তাঁর বক্তব্য প্রায়শই ভারতবিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন বহন করে। একই সভায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতা অংশগ্রহণ করেছেন।
মাহফুজ আলম তার বক্তৃতায় বলেছেন, "খুবই সংকটময় পরিস্থিতি। আমাদের ওপর হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা লাশ নেব। অত সুশীলতা লাভজনক নয়।" তিনি আরও বলেন, "যদি আগে আমরা সংযম দেখাইনি, তবে আজ তারা এই সাহস পাচ্ছে। আমরা আর ক্ষমা করব না।"
এছাড়া এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী যারা বাংলাদেশে আশ্রয় পাচ্ছে, তাদের জন্য সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে আলাদা করা হবে।"
বিএনপির অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে একজন নেতা জানান, দলের পক্ষ থেকে ফোনে সমাবেশে সংহতি প্রকাশের বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে, তাই রাজনৈতিক মাঠ উত্তেজিত হওয়া দরকার নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নেতারা পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারা অনুমান করেছেন, সভায় বিতর্কিত বা উসকানিমূলক বক্তব্য আসতে পারে এবং সেই সবের দায় নিতে চাইনি। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে দলের নেতারা সতর্ক হয়েছেন এবং শহীদ মিনারে সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত হয়েছেন।
এর আগে শনিবার, হাদির ওপর হামলার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের ডেকে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের আগে ওসমান হাদির পরিবারকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সকল দলের নেতাদের সাথে সান্ত্বনা দেওয়া হয়।


No comments