Header Ads

বিএনপির কাছে ৩০০ আসনের মধ্যে ২২২টি আসন চেয়েছে মিত্ররা — কোন দল কতটি আসন দাবি করেছে?

                                      

বিএনপির কাছে ৩০০ আসনের মধ্যে ২২২টি আসন চেয়েছে মিত্ররা — কোন দল কতটি আসন দাবি করেছে?



আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ২৩৭টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মিত্রদের নাম তালিকায় না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, বাকি ৬৩টি আসন জোট ও শরিকদের জন্য খালি রাখা হয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, এই ৬৩ আসনের সবগুলো শরিকদের জন্য নয়। এর মধ্যে কিছু আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে শরিক দলগুলোর প্রতি সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

নির্বাচনসংক্রান্ত আইন—গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা এবার ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নয়, বরং নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে শরিকদের বেশিরভাগেরই নিজস্ব ভোটব্যাংক না থাকায় তাদের জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। ফলে অমীমাংসিত আসনগুলোর কিছুতে বিএনপির প্রার্থীরাই সুযোগ পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পেঁয়াজের কেজি এখন শতকের ওপরে

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। এসব দলের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই-বাছাই করে তাদের জন্য ২৫ থেকে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে জোট হলে তাদের জন্য আরও প্রায় ১০টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।

৬৩টি আসন খালি রাখার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমাদের ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় ৬৩টি আসন এখনো খালি রাখা হয়েছে। এর সবই যে শরিকদের জন্য, এমন নয়। কিছু আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে। এসব আসন দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কে কোথায় প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

সম্প্রতি বিএনপি তাদের মিত্র দলগুলোকে জানাতে বলেছে, তারা কোন আসন থেকে প্রার্থী হতে চান। জবাবে শরিকরা ২২২টি আসনের দাবি জানিয়ে তালিকা জমা দিয়েছে। গণঅধিকার পরিষদও ২০টি আসন চেয়েছিল, যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা জমা দেয়নি।

তবে বিএনপি এখনো ঠিক করেনি, শরিকদের জন্য মোট কতটি আসন ছাড়া হবে। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০টি আসন শরিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ হতে পারে।

অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ ছয় নেতার প্রার্থিতা নিয়েও বিএনপি মতামত চেয়েছিল। পরবর্তীতে গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম বিএনপিকে জানায়।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১২ জন নেতাকে ইতিমধ্যে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। তারা হলেন—

  • পিরোজপুর-১: জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার

  • বগুড়া-২: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না

  • ঢাকা-১৭: বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ

  • লক্ষ্মীপুর-১: এলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম

  • কিশোরগঞ্জ-৫: বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা

  • ঢাকা-১৩: এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি

  • চট্টগ্রাম-১৪: এলডিপি নেতা অধ্যাপক ওমর ফারুক (কর্নেল অলি আহমদের ছেলে)

  • কুমিল্লা-৭: এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ

  • নড়াইল-২: এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ

  • পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর

  • ঝিনাইদহ-২: গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান

এদিকে, এনসিপির সঙ্গে জোট হলে আরও প্রায় ১০টি আসন ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-১৮, তাসনিম জারা ঢাকা-৯, সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ এবং আদিবুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
আরো পড়ুন

No comments

Powered by Blogger.