আমার বাবাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে, সম্প্রতি কিছু গোষ্ঠী — যারা নিজেদের জুলাইয়ের আন্দোলনের অংশীদার বলে মনে করে — তারাও আমার বাবাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণায় জড়িয়েছে। মিথ্যা, গুজব ও অপবাদ সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।”
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি লেখেন, “জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি বুঝেছি—সমাজে এখন অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থে মিথ্যার প্রসার ঘটাচ্ছে। তাই আজ সত্য বলা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
নিজের বাবাকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমার বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের মার্চের ২৭ তারিখে আমার মা, দুই ভাই ও দুই বোনকে নিয়ে নানাবাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে এপ্রিল মাসে ভারতের ইসলামপুরের এক শরণার্থী শিবিরে চলে যান এবং যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময় সেখানেই কাটান। ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও মুক্ত হওয়ার পর দেশে ফিরে দেখেন, সব কিছু লুট হয়ে গেছে। তখন মা নিজের গয়না বিক্রি করে সংসার চালাতেন। আমি তখন শিক্ষকতা শুরু করি এবং প্রথম বেতন মায়ের হাতে তুলে দিই।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর কোটি মানুষ ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন গড়ে তুলেছে। আমার বাবা ঠাকুরগাঁওয়ের আধুনিক উন্নয়নের পথিকৃৎ ছিলেন। তাঁর জীবনে কোনো মামলা হয়নি। মৃত্যুর পর স্থানীয় রাজনীতিবিদদের উদ্যোগে তাঁর স্মৃতি রক্ষায় একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এমনকি ১৯৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর সরকারিভাবে শোক প্রকাশ করা হয়।”
নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত বছরের জুলাইয়ে তরুণেরা বাংলাদেশকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, তারা মিথ্যা নয়, বরং মেধা, সততা, নীতি ও প্রজ্ঞা দিয়ে প্রতিযোগিতা করবে। মিথ্যা ও প্রতারণা দিয়ে হয়তো কিছু সময়ের জন্য জনপ্রিয় হওয়া যায়, কিন্তু দেশ গড়া যায় না।”
শেষে কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় কিছু অনুমান পাপ।” (সূরা আল-হুজুরাত)
তিনি আহ্বান জানান—“আসুন, আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা, দেশপ্রেম ও তরুণ প্রজন্মের সাহস একত্র করে একটি সৎ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।


No comments