নির্বাচন ঘিরে ইসলামি দলগুলোর ঐক্যচেষ্টা: নেতাদের মতামত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ ও জোট রাজনীতির তৎপরতা। আগামী নির্বাচনে কোন দল ক্ষমতায় আসবে, কারা কার সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা বাড়ছে, তেমনি সাধারণ ভোটারদের মাঝেও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইসলামপন্থি দলগুলোর অবস্থান ও কৌশল নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে আসন্ন নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসলামি দলগুলোর বেশিরভাগই এই দুটি দলকে ঘিরে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জোট পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। উভয় দলই সমমনা রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতার উদ্যোগ চালাচ্ছে। তবে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বা কাছাকাছি সময়ে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতারা।
২৪ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমাদের নির্বাচনি ঐক্য প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছে। ইসলামি দলগুলোর পাশাপাশি কিছু দেশপ্রেমিক দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আমরা ইসলামি ঐক্যের সম্ভাবনা দেখছি এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামপন্থিদের মধ্যে ঐক্য তৈরি হয়েছে। তারা বিভক্তি দেখতে চায় না। ইসলামি দলগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক কাছাকাছি এসেছে। বড় কোনো বাধা নেই। ঐক্য হলে আমরা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসব।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ এখন মাঠে নেই, আর বিএনপিকে মানুষ বহুবার দেখেছে। ফলে জনগণের নতুন প্রত্যাশা ইসলামপন্থিদের দিকেই। শুধু কয়েকটি আসন নয়, এবার ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ এসেছে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর চিন্তাভাবনাও এক। আশা করি নির্বাচন পর্যন্ত এই অবস্থান বজায় থাকবে।”
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, “দলের তৃণমূল এবং সাধারণ জনগণ ইসলামি ঐক্য চান। এখন পর্যন্ত কোনো বড় বাধা নেই। সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করছি, আসন ভাগাভাগির মাধ্যমে ইসলামি দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে।”
খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী জানান, “তৃণমূলের মধ্যে প্রবল আগ্রহ রয়েছে যেন ইসলামি দলগুলো একক প্রার্থী দেয়। জনগণ পরিবর্তন চায়। ইসলামপন্থিরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কমবে এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা পাবে। আমরা সময়মতো নির্বাচনি জোটের সিদ্ধান্ত নেব।”
নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামি ঐক্যের পক্ষে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। আমরা জামায়াতসহ আটটি দলের যুগপৎ কর্মসূচিতে আছি। তবে নির্বাচনি সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
জমিয়তের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, “ইসলামি ঐক্য ভালো উদ্যোগ, তবে সেটা ইসলামের স্বার্থে হতে হবে। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও আছে। তবে বিএনপি ও জামায়াত—দুটো দলের প্রতিই মানুষের কিছু নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। যদিও মাঠপর্যায়ে জামায়াতমুখী অবস্থানের কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।”
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, “সারা দেশে ইসলামি দলগুলোর একক প্রার্থীর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা পারস্পরিক ছাড়ের মাধ্যমে ঐক্যের চেষ্টা করছি। তবে বাস্তবতা হলো, সব দল এক হলেও অনেক প্রার্থী শক্তিশালী নয়। তাই হিসাব-নিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপির সঙ্গেও সমঝোতার সম্ভাবনা আছে।”
ইসলামী ঐক্যজোটের অন্য অংশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা ইলিয়াস আতহারী বলেন, “মাঠে জনগণ ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য দেখতে চায়। তবে শুধু ইসলামি ঐক্যেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। বিএনপির সঙ্গে আমাদের নির্বাচনি সিদ্ধান্ত রয়েছে।”
হেফাজতে ইসলামের এক যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মানুষ ইসলামি ঐক্য চায়। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন দল গোপনে বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করছে। এর ফলে ইসলামি ঐক্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানান, “আমরা যুগপৎ আন্দোলনে আছি, তবে এখনো নির্বাচনি জোট বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ২৫ অক্টোবর দলের সাধারণ পরিষদ ও মজলিসে শূরার বৈঠকে তৃণমূলের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, “তৃণমূলের সবাই ইসলামি ঐক্য চান। তবে শীর্ষ নেতারা এখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। ইসলামি ভোট একত্রে রাখার তৎপরতা অব্যাহত আছে, এবং আশা করা যায় নির্বাচনের আগে ঐক্যের রূপরেখা স্পষ্ট হবে।
আরো পড়ুন


No comments