Header Ads

নাহিদের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত যা বললো

                                                

নাহিদের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত যা বললো



নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ‘আন্দোলন’কে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং হামিদুর রহমান আজাদ। রোববার এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, “দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে নাহিদ ইসলামের পিআর নিয়ে জামায়াত ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্য অপ্রত্যাশিত এবং গ্রহণযোগ্য নয়। জামায়াত কোনোভাবে এ ধরনের মন্তব্যকে সমর্থন করে না।

এবার যৌথভাবে আন্দোলনে নামছে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দল

হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “যে কোনো দলের ব্যাপারে অন্য দলের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রেখে মন্তব্য করা উচিত। দোষারোপ বা ব্লেম-গেমের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা সময়ের দাবি। পুরনো রাজনৈতিক ধারাই ছিল এই ধরনের রাজনীতি। আমরা চাই ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে।”

তিনি আরও বলেন, “যখন কোনো দল বা ব্যক্তি সামঞ্জস্যতা বা রাজনৈতিক অবস্থান হারায়, তখন তারা যে কোনো কিছু বলতে পারে। এটি যে কোনো দলের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। এনসিপির কথায় যারা জাতিকে নতুন স্বপ্ন দেখাতে চায়, তারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করা উচিত।”

এর আগে নাহিদ ইসলাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লিখেছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর তথাকথিত ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) আন্দোলন’ ছিল সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনটি পরিকল্পিতভাবে গঠিত হয়েছিল যাতে ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা এবং জনগণের অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠনের জাতীয় সংলাপকে বিভ্রান্ত পথে নেওয়া যায়।

নাহিদ বলেন, ভোটের পিআর ভিত্তিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের মূল লক্ষ্য ছিল সংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা এই সংস্কারের চারপাশে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন এবং জুলাই সনদের আইনি কাঠামো বিস্তৃত জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জামায়াত ও তার মিত্ররা এই এজেন্ডাকে হরণ করে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সংস্কার নয়, বরং কৌশলী প্রতারণা।

তিনি আরও জানান, জামায়াত কখনোই সংস্কারমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেনি, যেকোনো প্রস্তাব বা সংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেনি, এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ঐকমত্য কমিশনে তাদের হঠাৎ ‘সংস্কারের’ পক্ষে অবস্থান নেওয়া আদর্শগত বিশ্বাস নয়, বরং রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ এবং সংস্কারের ছদ্মবেশে নাশকতা ছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ বাংলাদেশের মানুষ এই প্রতারণা স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে। তারা আর কখনো মিথ্যা সংস্কারক বা কৌশলী কারসাজিকারীর দ্বারা প্রতারিত হবে না। সর্বশক্তিমান আল্লাহ বা দেশের সার্বভৌম জনগণ কোনো অসৎ ও সুবিধাবাদী শক্তিকে শাসন করার অনুমতি দেবে না।
আরো পড়ুন

No comments

Powered by Blogger.