মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কারখানায় চাকরি পেয়েছিলেন নার্গিস, এখন মেয়ের ছবিটি বুকে চেপে কাঁদছেন মা
মেয়ে নার্গিস আক্তারের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না মা সুরমা বেগম। হাতে মেয়ের পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বারবার বলছেন, “আর্মি, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস—কেউ কিছু বলছে না। ভেতরে কী অবস্থা, আমার মেয়ের কিছু হলো কি না, কিছুই জানি না।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় একটি পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। বিকেল পর্যন্ত নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নার্গিসের মা সুরমা বেগম।
মিরপুর-১ গুদারাঘাট এলাকার বাসিন্দা সুরমা বেগম জানান, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তাঁর মেয়ে নার্গিস ‘আনোয়ার ফ্যাশন’ নামের পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেছিল। এসএসসি পরীক্ষার পর বাসায় বসে না থেকে নিজেই চাকরির খোঁজে গিয়ে কাজটি পেয়েছিল নার্গিস। মাকে দিয়েই সে সেলাই শিখেছিল।
শিয়ালবাড়ির যে ভবনে কারখানায় আগুন লাগে, তার পাশের সড়কে একটি শোরুমের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন আফজাল সরকার। তিনি আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। আফজাল জানান, আগুন প্রথমে কারখানার নিচতলার ‘ওয়াশ সেকশনে’ লাগে।
পরে সেখান থেকে আগুন পাশের টিনের ছাউনি দেওয়া রাসায়নিকের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়, রাসায়নিকের ড্রামগুলো ছিটকে পড়ে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। আফজালের মতে, কয়েকজন কর্মী কোনোভাবে বেরিয়ে এলেও বেশিরভাগই ভেতরে আটকা পড়ে যায়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করছে। সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনতলা কারখানার ভেতরে এখনো তল্লাশি অভিযান চলছে।
এদিকে রাসায়নিকের গুদামের আগুন এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, সেখানে ব্লিচিং পাউডার, প্লাস্টিক ও হাইড্রোজেন পার–অক্সাইডসহ দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল।


No comments