মাউশি পরিচালক শিশিরের অপসারণ ও শাস্তি দাবি
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের ১৯ দফা অভিযোগ তুলে তার অপসারণ ও চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি-সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারী প্ল্যাটফর্ম।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, দায়িত্বশীল পদে থেকেও আবু কাইয়ুম শিশির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার পরিপন্থী কাজে জড়িত ছিলেন। আগস্টের পরও তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন, যা শিক্ষা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এর আগে ‘মিনিস্ট্রি অডিটের’ নামে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের এমপিও ভাতা থেকে অর্থ আদায় ছিল নিয়মিত ঘটনা। সেই ধারা অব্যাহত রেখে মাত্র তিন মাসে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন আবু কাইয়ুম শিশির। তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর থেকে বদলি করে মুমিনুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজে পাঠানো হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি; বরং বদলি ঠেকাতে আদালতে মামলা করেন। পরবর্তীতে তাকে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে। অসদাচরণ ও সরকারি চাকরি বিধি ভঙ্গের দায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী মামলা চলাকালে কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়নের সুযোগ না থাকলেও তাকে দুই দপ্তরের পরিচালক করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই চাকরি বিধির লঙ্ঘন।
এছাড়া তার স্ত্রী লন্ডনে অবস্থান করলেও ঢাকা স্টেট কলেজের শিক্ষক পরিচয়ে তিনি নিয়মিত বেতন তুলছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। টেন্ডার ও প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, কমিশন বাণিজ্য এবং যোগ্য ও সিনিয়রদের উপেক্ষা করে সুবিধাভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও নেতারা অভিযোগ করেন। ভিন্নমতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি হুমকি ও হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক নেতা আবুল কালাম আজাদ, এসএম সাইদুজ্জামান, মাজিদুল হক রাজা, আলমগীর হোসেন, নজরুল ইসলাম, শামীম ও মনিরুল হকসহ অন্যরা।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় এসব অভিযোগের বিষয়ে কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশিরের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


No comments