৩৭ সংসদীয় আসনে পরিবর্তন: ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনগুলোর সীমানায় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩০০ আসনের মধ্যে ৩৭টির সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এর আগে ইসি ৩০০ আসনের মধ্যে ৩৯টিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে খসড়া প্রকাশ করেছিল। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে— পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪, ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩। এর মধ্যে গাজীপুরে একটি আসন বাড়বে, আর বাগেরহাটে একটি আসন কমে যাবে।
ইসি সচিব আখতার আহমদ জানিয়েছেন, “কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরাসহ বেশ কিছু জেলায় খুব ক্ষুদ্র পরিসরে সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।”
এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজের জন্য গত ১৬ জুলাই ভূগোলবিদ, নগরবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি দেশের ৬৪ জেলার ৩০০ আসনের সীমানা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে।
অতীতের পরিবর্তনের ইতিহাস
-
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালে ৩৮ আসনের বিরুদ্ধে দাবি-আপত্তি জমা পড়ে। এর মধ্যে ১০-১২টি আসন নিয়ে পর্যালোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় এক ডজন আসনে সামান্য পরিবর্তন এনে ৩ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়।
-
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালে খসড়া প্রকাশের পর দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করে ৩০ এপ্রিল ৩০০ আসনের গেজেট ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৪০টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২৫ আসনে ছোটখাটো সংশোধন আনা হয়।
-
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে ৮৭ আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। দাবি-আপত্তি শুনানি শেষে ৫০ আসনে সীমিত পরিবর্তন আনা হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
-
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে। সে সময় ১৩৩ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয় এবং শতাধিক আসনে পরিবর্তন কার্যকর করা হয়।


No comments