উপদেষ্টা মাহফুজের ওপর লন্ডনে হামলা, যা বললেন নাহিদ
অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে হত্যার বিষয়ে সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে এক ধরনের মৌন সম্মতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ লিখেছেন, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় মুখ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে লন্ডনে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও তাকে আক্রমণ ও অপদস্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
তিনি আরও যোগ করেন, “বারবার মাহফুজ আলমকে টার্গেট করছে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা। মাহফুজ আলমই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এর পরবর্তী ধাপে আমাদের প্রত্যেককেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। গোপালগঞ্জে ফ্যাসিস্টদের নৃশংসতা আমরা দেখেছি, তাই জানি সামনে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।”
গণঅভ্যুত্থানের পর মাহফুজ আলমের অবস্থান প্রসঙ্গে নাহিদ লিখেছেন, ফ্যাসিবাদ সবসময় বিভাজনের রাজনীতি করে, কিন্তু মাহফুজ আলম সে পথে না গিয়ে অন্তর্ভুক্তি, দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার রাজনীতির কথা বলেছিলেন। তবে বাংলাদেশ সেই পথ বেছে নেয়নি। বরং ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার নামে বিভিন্ন গ্রুপ প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করেছে, যা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটাবে। সময়ই প্রমাণ করবে মাহফুজ আলমের পথ সঠিক ছিল—যদি তিনি ততদিন বেঁচে থাকতে পারেন।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে দুইবার হামলার শিকার হলেও অন্তর্বর্তী সরকার কখনোই এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। কোনো কঠোর বার্তা দেওয়া হয়নি। কোনো উপদেষ্টা বা প্রেস সচিবও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তার দাবি, সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে নীরব সম্মতির মাধ্যমে মাহফুজ আলমকে অপদস্ত ও হত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। নাহিদের ভাষায়, “সরকার ও উপদেষ্টারা মাহফুজদের ব্যবহার শেষ করে এখন তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা এগুলো মনে রাখছি। রাজনৈতিকভাবেই এর জবাব দেওয়া হবে।


No comments