Header Ads

আ.লীগের মিছিল থামছেই না গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

  
                    

আ.লীগের মিছিল থামছেই না গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ঝটিকা মিছিল করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত মিছিলে এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং জনমনে গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

মিছিল ঘিরে আটক-গ্রেপ্তার

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর নাবিস্কো এলাকায় বড় আকারের মিছিল বের করা হয়। একইদিন সকালে জিএমজি মোড় থেকে আরেকটি মিছিলের চেষ্টা ব্যর্থ করে পুলিশ। সেসময় তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নিয়ামুল হাসানকে আটক করা হয়। দুপুরের মিছিলের পর সন্দেহভাজন চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। এদিন ধানমন্ডি এলাকায়ও মিছিলের খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।

পুলিশ জানায়, ধানমন্ডির ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া এবং নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য সাদ্দাম হোসেন পাভেলসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—

  • সাবেক এমপি সাদ্দাম হোসেন পাভেল (৫০)

  • তানজিল হোসেন অভি (২৯), সাংগঠনিক সম্পাদক, বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগ

  • একেএম খোরশেদ আলম (৬৫), সাবেক সভাপতি, বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক

  • আনিসুর রহমান হাওলাদার (৪৩), সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ সূর্যমণি ইউনিয়ন শাখা

  • দেলোয়ার হোসেন বাবলু (৬১), নেতা, বংশাল থানা আওয়ামী লীগ

  • আল মামুন ভূঁইয়া (২৯), সাংগঠনিক সম্পাদক, উত্তরা পূর্ব থানা যুবলীগ

  • কায়কোবাদ ওসমানী (৫৩), নির্বাহী সদস্য, কেন্দ্রীয় যুবলীগ

  • আনোয়ার হোসেন (৬০), সাবেক সভাপতি, খিতিরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান।

ডিএমপি জানায়, পাভেল শুধু ঝটিকা মিছিলে নয়, নাশকতার পরিকল্পনা এবং আর্থিক সহায়তাতেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

বিভিন্ন এলাকায় মিছিল

শুক্রবার ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় বেশ কয়েকবার ঝটিকা মিছিল হয়েছে।

  • ৩ সেপ্টেম্বর বনানী ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগের মিছিল।

  • ৩১ আগস্ট ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল।

  • তারও আগে গুলিস্তান বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে কয়েকশ নেতাকর্মীর বিক্ষোভ।

এভাবে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলটির মিছিল বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বক্তব্য

তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাইমুম হোসেন বলেন, “নামাজ শেষে বের হয়ে দেখি আওয়ামী লীগের মিছিল চলছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সবাই বলছিলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল কিভাবে এভাবে প্রকাশ্যে মিছিল করে।”

তিব্বত মোড়ে এক শ্রমিক জানান, দুপুরে কয়েক হাজার লোক ‘শেখ হাসিনা, জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে আসে।

মিছিলে অংশ নেওয়া এক নেতা বলেন, “ঘরে বসে থেকেও তো রক্ষা নেই। তাই নির্দেশ পেয়ে আমরা রাস্তায় নামছি।”

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, “সকালে জিএমজি মোড় থেকে বের হওয়া মিছিল আমরা ঠেকিয়েছি। একজনকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে নাবিস্কো থেকে আবারও মিছিল হয়, সেখান থেকে লোকজনকে ধরা হয়েছে।”

পুলিশের অবস্থান

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) শাহাদাত হোসেন বলেন, মিছিল ঠেকাতে গোটা দেশে নির্দেশনা জারি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার গাফিলতি নেই। ইতোমধ্যেই নাশকতার একাধিক পরিকল্পনা ব্যর্থ করা হয়েছে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকায় মিছিল বেড়ে যাওয়ায় মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে আরো কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের প্রত্যাহার করা হবে। রাজধানীতে গোয়েন্দা নজরদারি, পুলিশি টহল এবং চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.