২০২৪ সাল ছিল স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ের বছর: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ। আর ২০২৪ সালে ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ’৭১-এর শহীদদের মতোই ’২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদেরও বাংলাদেশ ভুলবে না।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই), গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশ ছেড়ে পালায়। সেই দিন থেকেই বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয় এবং জনগণ স্বাধীনভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রতিবছর এই দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালন করা হবে।
তিনি বলেন, একুশ শতকের বাংলাদেশে একটি পলাতক স্বৈরাচার সরকার দেশে বিভীষিকাময় শাসন কায়েম করেছিল। গুম, খুন, অপহরণ, মামলা, নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বিএনপিসহ ভিন্নমতের লাখো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। অনেকেই ঘরছাড়া হন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হন।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামীদের দমন করতে দেশে গোপন বন্দিশিবির ‘আয়নাঘর’ স্থাপন করা হয়েছিল। সেসব অন্ধকার কক্ষে মানুষকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হতো। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। শিক্ষাব্যবস্থাও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়— ছাত্রদের হাতে বই-খাতার বদলে তুলে দেওয়া হয় সহিংস অস্ত্র।
অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ব্যাংক খাত ধ্বংস করে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। দুর্নীতি, লুটপাট ছিল নিত্যদিনের বিষয়।
তবে এসব অন্যায়ের শেষ রক্ষা হয়নি বলেও জানান তিনি। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ— ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, গার্মেন্টস কর্মী, নারী, শিশু সবাই এক হয়ে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়। তখন হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়। শহীদ হন শিশু আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধসহ অনেকে।
তারেক রহমান জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে অন্তত ১,৫০০ মানুষ শহীদ হন। আহত হন ৩০ হাজারেরও বেশি। অনেকেই পঙ্গু বা অন্ধ হয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, “তাই আমি বলি, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, ২০২৪ ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ’৭১-এর শহীদদের মতো ’২৪-এর শহীদদেরও জাতি ভুলবে না।”
তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের সময় এখন। ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমেই এই ঋণ শোধ করা সম্ভব। জনগণের ভোটে নির্বাচিত, দায়বদ্ধ সরকার গঠন করাই এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, যারা এখনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে তুলনা করেন, তাদের মনে রাখা উচিত— ৫ আগস্ট যা ঘটেছে তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল। সেদিন ফ্যাসিস্ট সরকার, সংসদ সদস্য, প্রধান বিচারপতি, এমনকি প্রধান খতিব সবাই পালিয়ে যান।
শেষে তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে গঠিত জাতীয় ঐক্য ভাঙবে না। বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ আসতে পারবে না। গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ একতাবদ্ধ থাকবে।


No comments