বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কোনো কোনো তথ্য নেই ভারতের মাটিতে
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে বলেন, ভারতের ভূখণ্ডে বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপ চলছে বলে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কথিত আওয়ামী লীগের সদস্যদের বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা ভারতের আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তারা অবগত নয়। ভারত সরকার অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতিও দেয় না। তাই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে ভারত অনুচিত বলে মনে করছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত আশা করে বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা ও ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে শিগগিরই অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের দিল্লি ও কলকাতায় ‘নিষিদ্ধ’ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অফিস স্থাপনের খবর তাদের নজরে এসেছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের বহু সিনিয়র নেতা ফৌজদারি মামলার আসামি হয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে পালিয়ে আছেন। গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি অখ্যাত এনজিওর আড়ালে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা করেন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমেও দলের এ ধরনের কার্যক্রমের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী প্রচারণা চালানো এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অবৈধভাবে অফিস স্থাপন স্পষ্টতই বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননা। এ ধরনের কার্যক্রম পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সুপ্রতিবেশী সম্পর্ককে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের অনুভূতিও আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বিবৃতিতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়, এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে। পাশাপাশি, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন কেউ বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপ চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।


No comments