ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে গেছে ৪২ হাজার একরের বেশি এলাকা
পঁচাত্তরের মধ্যে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। প্যারিসের আয়তনের থেকেও বড় একটি এলাকা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় ‘অড’ অঞ্চলে দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে চলমান দাবানল এত বড় যে প্যারিস শহরের আয়তনকেও ছাড়িয়ে গেছে। দুই হাজারের বেশি দমকলকর্মী ও সেনাসদস্য আগুন নেভাতে কাজ করছেন। এই দাবানলকে ৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও কিছু অংশে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসছে, তবুও আগামী কয়েকদিন ধরে এটি জ্বলতেই থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রিবোত গ্রামের কাছে শুরু হওয়া দাবানলে একজন নারী মারা গেছেন এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন দমকলকর্মী। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিবিসি জানাচ্ছে, আগুন নেভাতে ৫০০টিরও বেশি অগ্নিনির্বাপক যানবাহন এবং পানিবাহী বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে, যা প্রায় ৪২ হাজার একরের সমান।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, যদিও আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, পুরোপুরি নিভেনি। কাজ আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। বনাঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কিছু রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে, কারণ সেখানে বৈদ্যুতিক তারসহ নানা ঝুঁকি রয়েছে।
উপগ্রহ চিত্রেও দাবানলের ধোঁয়া ও পোড়া ভূমির বিস্তীর্ণ চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ১৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের বাড়ি ফেরত যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু এই দাবানলকে নজিরবিহীন দুর্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী খরাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরিবেশমন্ত্রী আগনেস পানিয়ে-রুনাশেও জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন।
বাইরু জানান, দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তীব্র বাতাস, শুকনো গাছপালা এবং প্রচণ্ড গরম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে, জোনকিয়ের গ্রামে কয়েকটি বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। গ্রামটির মেয়র জ্যাক পিরো জানিয়েছেন, গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এবং সব গাছপালা পুড়ে ছাইয়ে পরিণত হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত বুধবার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের সব সম্পদ এই দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত রয়েছে এবং সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ৮৩ হাজার একরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। সেখানে দমকল কর্মীরা দাবানল মোকাবিলায় বিমান ব্যবহার করছেন। শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র বাতাস দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


No comments