Header Ads

জানাগেল, সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির কত তারিখে হতে পারে

                                    

জানাগেল, সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির কত তারিখে হতে পারে



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত মঙ্গলবার কমিশনের সভায় এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রোডম্যাপ প্রকাশ করবে ইসি।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। পরিকল্পনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর ইসি প্রায় ৫৭ দিন সময় পাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য। বিশেষ করে প্রবাসী ভোটারদের সুবিধার্তে তফসিল ঘোষণার পর ভোটের মধ্যবর্তী সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ১০ দিন।

রোডম্যাপে উল্লেখ আছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে মোট ২৪টি বিষয়কে ২০৭ ধাপে বাস্তবায়ন করবে কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে—অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, ভোটার তালিকা তৈরি, নির্বাচনি আইন ও বিধি সংশোধন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, আসনসীমা নির্ধারণ, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা তৈরি, বিভিন্ন নির্দেশিকা প্রণয়ন, পোস্টার ও পরিচয়পত্র ছাপানো, নির্বাচনি সামগ্রী সংরক্ষণ ও বিতরণ, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রস্তুতকরণ, বাজেট বরাদ্দ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পদক্ষেপ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়, আইসিটি সহায়তা, প্রচারণা ব্যবস্থা, ডিজিটাল মনিটর সংযোজন, ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া এবং পোস্টাল ভোটিং।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ইসি আট শ্রেণির অংশীজনের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংলাপ করবে।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২১ ধাপে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তৈরি করা হবে। যাদের জন্ম ২০০৭ সালের ৩১ অক্টোবর বা তার আগে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তফসিল ঘোষণার অন্তত তিন দিন আগে ৩০০ আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা (ছবিসহ ও ছবি ছাড়া) ডিজিটাল আকারে সরবরাহ করা হবে এবং মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের আগে তালিকার কপি মুদ্রণ সম্পন্ন হবে।

নির্বাচনি আইন-বিধির সংস্কার কাজ ৩১ আগস্টের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়সীমার মধ্যে আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনও শেষ করা হবে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ১২ ধাপে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নীতিমালা ১৫ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। একই সময়ে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিংয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হবে।

৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনি আইন-বিধি একীভূত করা হবে। বিভিন্ন ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার ও পরিচয়পত্র তৈরির কাজ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। ১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনি মালামাল প্রস্তুত ও বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব ব্যালট বাক্স ও সরঞ্জাম পরীক্ষা করে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। একই সময়ের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের খরচ নির্ধারণ, বিশেষ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

৫ অক্টোবরের মধ্যে খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা তৈরি করা হবে। তফসিল ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যে তা যাচাই শেষে কমিশনে পাঠানো হবে এবং ভোটের কমপক্ষে ২৫ দিন আগে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা সংগ্রহ ও প্যানেল তৈরি করা হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।

২৫ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক করবে ইসি। তফসিল ঘোষণার আগে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও অনুষ্ঠিত হবে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনসংক্রান্ত সফটওয়্যার প্রস্তুত থাকবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কার্যক্রম চলমান থাকবে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত।

তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার শুরু করতে পারবে। প্রচারণা সরকারি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার করা হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতিটি আসনে রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রার্থীরা একই প্ল্যাটফর্মে ইশতেহার পাঠ করবেন।

প্রবাসী ভোটারদের জন্য ৫ জানুয়ারির মধ্যে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে এবং নির্বাচন শুরুর এক সপ্তাহ আগে তা দেশে ফেরত আনা হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরই তারা ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে ভোটার তালিকা প্রস্তুত হবে। আর কারাবন্দিদের কাছে ভোটের দুই সপ্তাহ আগে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে যাবে।

No comments

Powered by Blogger.