একবার সুযোগ পেলেই ৫৪ বছরের ইতিহাস পাল্টাবে জামায়াত
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, “আমরা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসন দেখেছি। কিন্তু মানুষ মুক্তি পায়নি, অধিকার নিশ্চিত হয়নি। আপনারা আমাদের একবার সুযোগ দিন, আমাদের ওপর আস্থা রাখুন—আমরা ৫৪ বছরের ইতিহাস বদলে দেব।”
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ডা. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, ইয়াছিন আরাফাত, জিয়াউল হাসান, জামাল উদ্দিন, নগর প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার এবং মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন।
আওয়ামী লীগের শাসন ও “বাকশাল” অভিযোগ
ডা. তাহের বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী বাকশালীরা দেশজুড়ে দুঃশাসন চালিয়েছে। তবে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন তারা নানা ষড়যন্ত্র করে ফের ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণ তাদের সে সুযোগ দেবে না।”
ইনসাফ ও ন্যায়ের রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি
তিনি বলেন, জামায়াত সত্য, ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জামায়াত কোনো আপস করবে না। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং তা রক্ষায় দল সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মন্ত্রী-এমপিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি কিনবেন না, সরকারি প্লটও নেবেন না। দুর্নীতিবাজদের হয় দুর্নীতি ছাড়তে হবে, না হলে জেলে যেতে হবে।”
নির্বাচনী ব্যবস্থা ও পিআর পদ্ধতির দাবি
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, “দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। অতীতের মতো গতানুগতিক নির্বাচনের পদ্ধতি সুফল বয়ে আনবে না। গত ৫৪ বছরে অধিকাংশ নির্বাচনই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। শেখ হাসিনার অধীনে হওয়া কোনো নির্বাচনই প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, ডামি ব্যালট, সিল মারার মতো অনিয়ম এ দেশের নির্বাচনে বারবার ঘটেছে। এসব নির্বাচন ছিল প্রহসন। তাই অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতি চালু করতে হবে। এ পদ্ধতি চালু হলে নির্বাচন নিয়ে অপরাধ, টাকা-পয়সার খেলা, মাস্তানি—সব বন্ধ হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘শুভবুদ্ধির’ আহ্বান
ডা. তাহের প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান জনগণের রক্তের বিনিময়ে এসেছে। আপনি এখন ক্ষমতায়, কিন্তু আপনার বা আপনার পরিবারের কেউ আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তাই অবাধ নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্কার জরুরি। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন ঘোষণা হলে তা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। তারা আপনাকে ছাড়বে না।”
ডা. রেজাউল করিম ও সেলিম উদ্দিনের বক্তব্য
ডা. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি হবে ইনসাফ ও ইসলাম। যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত থাকবে। দেশের অধিকাংশ মানুষই এখন ‘জুলাই মুক্তিযোদ্ধা’। কিছু বিশেষ গোষ্ঠী ছাড়া এই ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ নেই।”
তিনি সরকারের কাছে পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন এবং গণহত্যাকারীদের বিচার দৃশ্যমান করার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা যে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন, তাতে যদি জনতার প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু ঘোষণা নয়—নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়ন দেখতে হবে। নির্বাচনের ভিত্তি হতে হবে জুলাই সনদ। এর আগে গণহত্যার বিচার ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। না হলে অন্তর্বর্তী সরকারকেই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।”
গণমিছিলের রুট
গণমিছিলটি মহাখালী রেলগেট থেকে শুরু হয়ে মগবাজার চৌরাস্তায় এসে শেষ হয়। শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


No comments