যে কৌশলে বিদ্যুৎ খরচ কমাবেন
আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনের ঘরের কাজগুলো আরও সহজে করতে চান, কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুতের বিল দেখে চিন্তায় পড়ে যান? কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করে আপনি সহজেই বিদ্যুতের খরচ কমাতে পারেন।
গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কিছু টিপস
লাইট ও এসি: আপনার বাড়ির সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় লাইট ও এসি থেকে। তাই সাধারণ বাল্ব বা টিউবলাইটের বদলে এলইডি লাইট ব্যবহার করুন। এতে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বেশি আলো পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, এসি ব্যবহার করলে এর তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন। এতে অতিরিক্ত লোড পড়ে না এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। প্রতি ১৫ দিন অন্তর এসির কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করলে এর কার্যকারিতা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচও কমে। বছরে অন্তত একবার এসি সার্ভিসিং করানো গুরুত্বপূর্ণ।
পুরোনো ইলেকট্রনিক্স বদলান: পুরোনো ইলেকট্রনিক্স যেমন ফ্যান, ফ্রিজ, এসি, বা টিভি সাধারণত নতুন মডেলের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই ধীরে ধীরে এগুলোর বদলে নতুন মডেলের যন্ত্র কিনুন। পুরোনো ইলেকট্রনিক্স বদলানোর ফলে আপনার বিদ্যুৎ খরচ অনেক কমে আসবে।
ফ্রিজ ও টিভির স্ট্যাবিলাইজার: অনেক সময় ফ্রিজ ও টিভির জন্য আলাদা করে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা হয়, যা অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রতি মাসে ৩০-৪৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ টেনে নেয়। এসব যন্ত্রের জন্য স্ট্যাবিলাইজারের প্রয়োজন নেই, তাই এগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার: আমরা অনেকেই ইলেকট্রনিক্স পণ্যের সুইচ বন্ধ করে দিলেও প্লাগ লাগানোই রাখি। এই অবস্থায়ও বিদ্যুৎ খরচ হয়, যাকে ‘স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার’ বা ‘ফ্যান্টম পাওয়ার’ বলে। টিভি, সেট-টপ বক্স, বা মোবাইল চার্জার যদি প্লাগে লাগানো থাকে, তাহলে প্রতি মাসে ৫-১০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। এই অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে ব্যবহার শেষে অবশ্যই প্লাগ খুলে রাখুন।
ওয়াশিং মেশিন ও ড্রায়ার: ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়ার সময় গরম পানির বদলে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। এতে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটা কমে যাবে। এছাড়াও, একবারে বেশি কাপড় দিন, যাতে বারবার মেশিন চালাতে না হয়। কাপড় শুকানোর জন্য ড্রায়ার ব্যবহার না করে, রোদে মেলে দিলে অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এতে আপনি বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও অবদান রাখতে পারবেন।


No comments