Header Ads

নেতানিয়াহু ও নিজেকে ‘যুদ্ধের নায়ক’ বলে উল্লেখ করলেন ট্রাম্প

                                 

নেতানিয়াহু ও নিজেকে ‘যুদ্ধের নায়ক’ বলে উল্লেখ করলেন ট্রাম্প



 ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েল আগ্রাসন চালাচ্ছে। এই বর্বর অভিযানে নিহত হয়েছে ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘যুদ্ধের নায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক মার্ক লেভিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু একজন ভালো মানুষ এবং তিনি এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তার কাজকে সমর্থন করেছেন এবং তাকে ‘যুদ্ধের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে ট্রাম্প আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করেছেন নাকি ইসরায়েলের দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গ তুলেছেন, তা স্পষ্ট নয়।

২০২০ সাল থেকে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন অবস্থায় ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী। গত বছরের নভেম্বরে আইসিসি তাকে এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টকে গাজার যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া গাজার ধ্বংসাত্মক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ আইয়াল জামি গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। সেনাবাহিনী অতিরিক্ত ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আরও ২০ হাজার সেনার মেয়াদ ৪০ দিন বাড়ানো হচ্ছে।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাটজ ও জামি দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড, জেনারেল স্টাফ, সামরিক গোয়েন্দা, অপারেশন বিভাগ ও শিন বেতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দখল পরিকল্পনার ধাপগুলো তুলে ধরেছেন। পরিকল্পনায় উত্তর গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি বাড়ানোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সন্দর্ভত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গাজায় ইসরায়েলের অভিযান শুরু হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিরা ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করছেন। এই অভিযানে গণহত্যা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানুষের ওপর খাদ্যনিষেধ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, ১ লাখ ৫৬ হাজার আহত এবং ১০ হাজারেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

No comments

Powered by Blogger.